রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ করা, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বড় বড় ঢল এসেছে এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ পালিয়ে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শিবিরগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন প্রজন্ম যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ মানবিক তাগিদেই সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং শিবিরগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। প্রায় ছয় হাজার লার্নিং সেন্টারে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই শিবিরগুলো দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান নয়।
দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ফলে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার ও মাদক পাচারের মতো আন্তদেশীয় অপরাধ পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ এই দায়ভার বহন করতে পারে না। রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি ও সমাধান—উভয়ই মিয়ানমারে নিহিত। রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নির্বিচার আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ ও জোরপূর্বক শ্রমের মতো নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে এবং সেখানে এখনো প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি সহমর্মিতার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
১৯৮০-এর দশকেও দেশটি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে।
নিউ ইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলো উদ্ধারে…
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান তার শর্তগুলো মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের সময়সীমা…
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে চাল, আটা, ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর…
ইসলামে ইবাদতের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচতে নিয়তের…
নাটোরের গুরুদাসপুরে অন্যের জমিতে ১২ বছর ধরে বসবাস করা এক দিনমজুরের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে…
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…
This website uses cookies.