Header Premium (728×90)

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো মুসলিম জোট নয়: পাকিস্তান আইএসপিআর প্রধান

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' কোনো মুসলিম জোট বা কোনো আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক পদক্ষেপ নয় বলে স্পষ্ট করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি আল অ্যারাবিয়া ইংলিশের ‘গ্লোবাল নিউজ টুডে’ নামক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক টম বার্গেস ওয়াটসনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি এবং এর ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক টম বার্গেস ওয়াটসন জানতে চান, এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের একটি সাধারণ নিরাপত্তা কাঠামোতে রূপ নেবে কি না। এর জবাবে শরিফ চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, চুক্তির কোথাও এটিকে ‘মুসলিম জোট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি কেবল মুসলিম দেশগুলোর জন্য তৈরি কোনো বিশেষ ক্লাবও নয়। মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই জোট গঠন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের এই সামরিক কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে মূলত সৌদি আরবের রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ কয়েক দশকের সম্পর্ককে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক ও পরিপূরক জোট, যার পেছনে কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য বা আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। বরং এটি সম্মিলিত প্রতিরোধের একটি কার্যকর ব্যবস্থা।

জোটের কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে পাকিস্তানের ভূমিকা কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফ চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই কার্যকরী পরিকল্পনা কখনোই প্রকাশ্যে আনা হয় না। বিশ্বে এ ধরনের আরও অনেক প্রতিরক্ষামূলক ও বাধ্যতামূলক চুক্তি রয়েছে, কিন্তু কোনো দেশই তাদের কৌশলগত বিস্তারিত পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করে না।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট যৌথভাবে এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, জোটের যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ

শিল্পের সত্য ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের দর্শনের তুলনামূলক…

5 minutes ago

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী

আওয়ামী লীগের নির্দেশে যারা অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনো…

11 minutes ago

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু…

13 minutes ago

বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। গত মঙ্গলবার রাতে…

18 minutes ago

ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট

পাবনার ঈশ্বরদীতে ক্রেতার পরিচয়ে দোকানে ঢুকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণের মালা…

44 minutes ago

গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে দুই লাখ টাকার অনুদানের…

53 minutes ago

This website uses cookies.