প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৪২
মিসরের প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র সাক্কারায় ৪ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো একটি অনন্য সমাধি আবিষ্কার করেছেন মিসরীয় ও স্প্যানিশ প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি যৌথ দল। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীন মিসরের একজন উচ্চপদস্থ বিচারক এবং তাঁর বাবার সমাধি এটি। রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে সম্প্রতি চালানো এক খননকার্যে এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি সম্পন্ন হয়।
ঐতিহাসিক এই সমাধিটি প্রাচীন মিসরের পঞ্চম রাজবংশের ফারাও জেদকারে ইসেসির শাসনামলের বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়। খ্রিস্টপূর্ব ২৪ শতকের ওই সময়কালে মিসরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তন এসেছিল। আবিষ্কৃত এই সমাধিটি ইউনমেন নামের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রজাদের অভিযোগ ও আবেদন শুনে তা বিবেচনা করা এবং রাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করা।
সাক্কারা প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার পরিচালক আমর আল-টাইয়েব ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইউনমেনের এই দায়িত্ব ছিল প্রাচীন মিসরীয় ‘মাআত’ ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রাচীন মিসরে ‘মাআত’ ছিল সত্য, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলার দেবী ও তার প্রতীক। বার্সেলোনা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিজের যৌথ প্রকল্পের অধীনে উত্তর সাক্কারার মারিয়েত কবরস্থান এলাকায় চলতি বছরের গ্রীষ্মকালীন খনন মৌসুমে এই প্রাচীন সমাধির সন্ধান মেলে।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত এই সমাধিটি মূলত একটি ‘মাস্তাবা’, যা প্রাচীন মিসরে অভিজাত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য সমতল ছাদবিশিষ্ট সমাধি হিসেবে তৈরি করা হতো। এই সমাধিতে দুটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চ্যাপেল রয়েছে। এর একটি ইউনমেনের নিজের এবং অন্যটি তাঁর বাবা ইটির জন্য নির্মিত। ইউনমেনের বাবা ইটি ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ লেখক, যিনি মূলত কৃষিজমি তদারকি এবং দেবতাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত নৈবেদ্য দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
৪০ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মরুভূমির বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকার পরও ইউনমেনের চ্যাপেলের দেয়ালে খোদাই করা চিত্রগুলোর মূল রং এখনো অক্ষত রয়েছে। দেয়ালগুলোতে কৃষকদের কাজ করার দৃশ্য, নৈবেদ্য বহনকারী কর্মচারী এবং শেষকৃত্যের বিভিন্ন আচারের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া সমাধিটির সম্মুখভাগটি অত্যন্ত অলংকৃত, যেখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন লিপি ও সমাধি মালিকের আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইটির চ্যাপেলেও রঙিন নৈবেদ্য প্রদানের দৃশ্যের পাশাপাশি একটি ‘ফলস ডোর’ বা কৃত্রিম দরজার সন্ধান মিলেছে। প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল, এই বিশেষ দরজা দিয়ে জীবিতদের পাঠানো খাবার ও অন্যান্য নৈবেদ্য মৃতদের কাছে পৌঁছায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসর সরকার দেশের পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে তুলে ধরছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস এই পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই নতুন এই আবিষ্কারকে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত নভেম্বরের দিকে মিসর সরকার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রতীক্ষিত এবং প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে। ২০১০ সালে এটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং করোনা মহামারিসহ নানা কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে তা উন্মুক্ত করা হয়।
ওমান উপকূলে এমভি কেপ দাও নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। হামলায়…
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন বন্ধু বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের…
নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য ও…
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
This website uses cookies.