Header Premium (728×90)

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিদের নাভিশ্বাস

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও হয়রানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজ ভূমিতে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত অত্যাচার ও উচ্ছেদের হুমকির কারণে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার মধ্যে গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জীবনে এক ঘোর অমানিশা নেমে এসেছে।

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে আল-মুঘাইয়ির বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ ভোর হওয়ার আগেই স্কুলে উপস্থিত হন। রামাল্লার উত্তর-পূর্বের এই বিচ্ছিন্ন গ্রামটি এখন ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের আউটপোস্ট দ্বারা পরিবেষ্টিত। চলতি বছর এই গ্রামে ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে। নিহতদের একজন ১৪ বছর বয়সী আওস আল-নাসান, যাকে এপ্রিলে স্কুলের ফটকের বাইরে এক বসতি স্থাপনকারী গুলি করে হত্যা করে। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে আওসকে গুলি করার মুহূর্তটি দেখা গিয়েছিল।

ইংরেজির শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম জানান, বসতি স্থাপনকারীরা স্কুলের দেয়ালের কাছাকাছি চলে আসায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ইসরাইলি সেনার গুলিতে জিহাদ নামে এক শিশু নিহত হয়। ওয়াহিদ জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুলের ফটকের ভেতরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রিজার্ভ সেনাসহ বেসামরিক নাগরিকদের বহনকারী গাড়িতে পাথর ছোড়া হলে ওই সেনা গাড়ি থেকে নেমে সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সেনাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আরও দুই শিক্ষার্থী এবং সদ্য স্কুল শেষ করা ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

গ্রামের নিরাপত্তার খাতিরে প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ স্কুল চত্বরে দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন এবং ফটক আরও শক্তিশালী করেছেন। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করছেন। হারুন বিশারা নামের এক অভিভাবক জানান, বাবা-মায়ের উপস্থিতি শিশুদের কিছুটা সাহস দেয়। ক্লাসের সময় শিক্ষকদের বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন সেনা বা বসতি স্থাপনকারীরা কাছে এলে শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখায় বা তাদের কাছে না যায়। আবু নাঈম জানান, আগে বসতি স্থাপনকারীরা পাহাড়ের পেছনে থাকলেও এখন সেনারা তাদের সরাসরি গ্রামের কৃষিজমি পর্যন্ত নিয়ে আসছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…

2 hours ago

নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…

2 hours ago

নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…

3 hours ago

মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…

3 hours ago

টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…

3 hours ago

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…

3 hours ago

This website uses cookies.