Header Premium (728×90)

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান ও চীন সম্প্রতি একটি যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই চুক্তিকে ভারত তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান হলো, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো বৈধ সীমান্ত নেই এবং এই যৌথ কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি অবৈধ এবং এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তিনি আরও বলেন, যে ভূখণ্ডকে ভারত নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তা নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের কোনো ধরনের চুক্তি করার আইনি এখতিয়ার নেই। ভারত মনে করে, পাকিস্তান ও চীনের এই যৌথ কমিশন মূলত বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকাকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপত্যকাটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে, যা ভারত লাদাখ অঞ্চলের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। নয়াদিল্লি বরাবরই এই হস্তান্তরকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে।

শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব মনে করেন, এটি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়, বরং ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি পুরনো ব্যবস্থাকে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের মূল চুক্তির ৬ নম্বর ধারাটি অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যেখানে কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনার শর্ত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানির মতে, চীন কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন জানিয়ে ভারতকেও একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। এই চুক্তি একই সঙ্গে সিপিইসি অবকাঠামো সুরক্ষার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করবে।

ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ কেবল মানচিত্রগত নয়, বরং ভূ-কৌশলগত। তাই এই ধরনের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাই অগ্রহণযোগ্য এবং এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে ভারত যেহেতু কাশ্মীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অংশে অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যেমন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে, তাই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীন ও পাকিস্তান তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও সংহত করার চেষ্টা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী…

6 minutes ago

বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বিশ্রামরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর চালক আজান…

11 minutes ago

সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই

নতুন ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক কৌশলের…

23 minutes ago

মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ২৬তম…

23 minutes ago

শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জের শাল্লায় দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও…

33 minutes ago

সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়ায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমিতে দেয়াল তুলে গোরস্থান তৈরির চেষ্টা করা…

44 minutes ago

This website uses cookies.