Header Premium (728×90)

ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের কঠোর ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’

মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা থমকে গেলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কূটনৈতিক টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ গ্রহণ করেছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো, কোনো জাতীয় পরিকাঠামো ধ্বংস না করে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কোণঠাসা করা।

এই কৌশলের প্রধান হাতিয়ার হলো নৌ-অবরোধ। মার্কিন নৌবাহিনী কেবল হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারত মহাসাগরেও অবস্থান নিয়ে ইরানের জ্বালানি তেল চোরাচালানের গোপন জাহাজের বহর বা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জব্দ করছে। একই সঙ্গে চীন ও ভারতে সস্তায় তেল পাঠানো আটকানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ইরানের তেলখনি ও খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো ধারণক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটিতে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি তৈরি করছে।

নৌ-অবরোধের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতির ওপরও আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যবহৃত লাখ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে। এছাড়া, যেসব ছোট ছোট চীনা শোধনাগার গোপনে ইরানের কাছ থেকে তেল কিনছিল, তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ধারণা, অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালালে সাধারণ ইরানিরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগণের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের আয়াতুল্লাহ সরকার বা আইআরজিসির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেহরান মূলত সময়ের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালিতে সংকট বজায় রেখে জ্বালানির বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করে তারা ফায়দা তুলতে চায়। তেহরানের বাজি হলো, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেলে ওয়াশিংটনই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারে ইনি আল-জাজিরাকে বলেছেন, সামরিক হামলা চালানোর আগে শত্রুকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দমবন্ধ করে দেওয়াই এই কৌশলের লক্ষ্য। অ্যানাকোন্ডা যেভাবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও এই কৌশল অনুসরণ করছে। কারণ, গত পাঁচ মাসে তারা যা করেছে, তা ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি যুক্তি দেন, ইরান অতীতেও নিষেধাজ্ঞা সহ্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। দারে ইনির মতে, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে গেছেন, যেখানে তিনি জিততেও পারছেন না, আবার বেরিয়ে আসতেও পারছেন না। এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে তেহরানের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থাকে কাবু করা কঠিন। তাদের ধারণা, মূল অবকাঠামোতে কঠোর সামরিক আঘাত ছাড়া ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনা সম্ভব না-ও হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজ ডুবি, বাড়ছে বাণিজ্যিক নৌপথে হামলার তীব্রতা

হরমুজ প্রণালির কাছে ২৪ ঘণ্টায় দুটি পৃথক ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণের আঘাতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ…

19 minutes ago

রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী

বান্দরবানের লামা থেকে চকরিয়ার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে রেশমি জন্নাত, হালিমাতুস…

1 hour ago

স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের পর আকাশে দেখা গেল জেলিফিশ মেঘ

ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণের পর ভোরের আকাশে জেলিফিশ আকৃতির এক দৃষ্টিনন্দন মেঘের সৃষ্টি…

1 hour ago

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কথা-কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে…

2 hours ago

রোনালদোর আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক সমালোচনা করলেন সাবেক সতীর্থ রুনি

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক সতীর্থ ওয়েইন রুনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার…

2 hours ago

সন্তান হারিয়ে ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছাড়ল নিউজিল্যান্ডের পরিবার

সাগরে স্বপ্নের নৌযান ডুবে ১৬ বছর বয়সী সন্তান আলবার্টকে হারানোর পর ৫০ দিন কক্সবাজারে অবস্থান…

2 hours ago

This website uses cookies.