ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমবে, আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ কাজীপুরের যমুনার চরাঞ্চলে যাতায়াত সংকট, নৌকাই একমাত্র ভরসা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১

ভারতে ডিগ্রিধারী তরুণদের সামনে কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্রুত বিস্তারের ফলে তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লেও, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষাঋণ, বেকারত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। নয়াদিল্লির নিকটবর্তী গ্রেটার নয়ডার ‘নলেজ পার্ক’ এলাকাটি এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্র। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের অনেকেই পরিবারের সঞ্চয় ভেঙে কিংবা চড়া সুদে ব্যাংকঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে ভর্তি হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ, যা গত দশ বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। তবে শিক্ষার্থীর এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ স্নাতক বেকার। এছাড়া বছরে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে মাত্র আড়াই লাখের মতো।

দেশের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং সেখানে পড়াশোনার খরচও তুলনামূলকভাবে কম, পাশাপাশি চাকরির সম্ভাবনাও বেশি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উচ্চ খরচে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় নিশ্চিত নয়। শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা অক্ষয় সাক্সেনার মতে, তরুণদের কাছে একটি ভুল ধারণা বিক্রি করা হয়েছে যে ডিগ্রি মানেই চাকরি। তার হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করে বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে ভর্তি হন, অথচ স্নাতকদের গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ হাজার ডলার।

প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চিত্রও বদলে গেছে। একসময় ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান করলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এসব চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার অনেক শিক্ষার্থীই এখন ঋণের বোঝা ও পারিবারিক আর্থিক চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স কাজ করে খরচ চালাচ্ছেন এবং তাদের প্রত্যাশা এখন বড় কোনো চাকরি নয়, বরং এমন একটি আয় যা দিয়ে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করে পরিবারের ওপর চাপ কমানো যায়।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভে পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিক্ষার বিস্তার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা তরুণদের জন্য সামাজিক উন্নয়নের সিঁড়ির পরিবর্তে ঋণ ও হতাশার ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৭আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ডিগ্রিধারী তরুণদের সামনে কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০১:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্রুত বিস্তারের ফলে তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লেও, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষাঋণ, বেকারত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। নয়াদিল্লির নিকটবর্তী গ্রেটার নয়ডার ‘নলেজ পার্ক’ এলাকাটি এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্র। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের অনেকেই পরিবারের সঞ্চয় ভেঙে কিংবা চড়া সুদে ব্যাংকঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে ভর্তি হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ, যা গত দশ বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। তবে শিক্ষার্থীর এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ স্নাতক বেকার। এছাড়া বছরে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে মাত্র আড়াই লাখের মতো।

দেশের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং সেখানে পড়াশোনার খরচও তুলনামূলকভাবে কম, পাশাপাশি চাকরির সম্ভাবনাও বেশি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উচ্চ খরচে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় নিশ্চিত নয়। শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা অক্ষয় সাক্সেনার মতে, তরুণদের কাছে একটি ভুল ধারণা বিক্রি করা হয়েছে যে ডিগ্রি মানেই চাকরি। তার হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করে বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে ভর্তি হন, অথচ স্নাতকদের গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ হাজার ডলার।

প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চিত্রও বদলে গেছে। একসময় ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান করলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এসব চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার অনেক শিক্ষার্থীই এখন ঋণের বোঝা ও পারিবারিক আর্থিক চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স কাজ করে খরচ চালাচ্ছেন এবং তাদের প্রত্যাশা এখন বড় কোনো চাকরি নয়, বরং এমন একটি আয় যা দিয়ে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করে পরিবারের ওপর চাপ কমানো যায়।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভে পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিক্ষার বিস্তার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা তরুণদের জন্য সামাজিক উন্নয়নের সিঁড়ির পরিবর্তে ঋণ ও হতাশার ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৭আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh