ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটারশকের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর দেশটির উপকূলীয় এলাকায় সুনামির ঢেউও দেখা গিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি (BNPB) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাগেওকেওতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় সেখানে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, ভবন ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদিকে ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরেতে উদ্ধারকারীরা ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং সেখানে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান।
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়, তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। বিএনপিবি প্রধান সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। নাগেওকেওতে বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৫৭টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ৪১টি মাঝারি এবং ১৪৮টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় ও ছয়টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত প্রবল এবং কম্পন অনুভূত হয়েছে পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও কোথাও প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এই কম্পনের ফলে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এন্ডে জেলার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে তাদের মূল ভূখণ্ডে কোনো সুনামির হুমকি নেই। ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ১৫ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। একই অঞ্চলে ১৯৯২ সালেও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা এই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের…
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের…
ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যর্পণসহ…
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া…
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটিতে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা…
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় পায়ের চর্মরোগের ঝুঁকি এড়াতে এবং পা সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু ঘরোয়া যত্ন…
This website uses cookies.