Header Premium (728×90)

বর্ষায় পায়ের সুরক্ষায় করণীয় ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা

বর্ষার মুষলধারে বৃষ্টিতে প্রকৃতি সজীব হয়ে উঠলেও এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া আমাদের পায়ের জন্য নিয়ে আসে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি, কাদা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দাদ, অ্যাথলিটস ফুট কিংবা নখের ছত্রাকজনিত সংক্রমণের মতো চর্মরোগের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়। শরীরকে সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো পা, তাই একে সুরক্ষিত রাখতে আমানুর রহমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

বৃষ্টিতে পা ভিজলে বা নোংরা পানির সংস্পর্শে এলে ঘরে ফিরেই পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে ফেলা জরুরি। বৃষ্টির পানি ত্বকে টানা আধঘণ্টার বেশি লেগে থাকলে চামড়ার রন্ধ্র নরম হয়ে যায়, যা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। তাই বাড়ি ফিরে পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে পা ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে আঙুলের ফাঁকের পানি মুছে ফেলতে হবে। এরপর খোলা বাতাসে পা শুকিয়ে নেওয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

বর্ষায় ফ্যাশনের চেয়ে জুতার উপযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ক্যানভাস বা চামড়ার জুতা ভিজলে সহজে শুকায় না, যা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আস্তানা তৈরির সুযোগ করে দেয়। এর পরিবর্তে রাবার, পিভিসি বা ওয়াটারপ্রুফ উপাদান দিয়ে তৈরি খোলা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী স্যান্ডেল পরা ভালো। সঠিক পাদুকা নির্বাচন করলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

পায়ের গভীর পরিচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি দূর করতে ‘ফুট বাথ’ বা ঈষদুষ্ণ পানির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে কিছুটা সামুদ্রিক লবণ ও অ্যান্টিসেপটিক বা নিমের নির্যাস মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে জীবাণু ধ্বংস হয় এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই ঘরোয়া যত্ন নিলে পা সতেজ থাকে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে গোড়ালি ফাটার সমস্যা এড়ানো যায় এবং দিনের বেলায় আঙুলের ফাঁকে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করা উচিত।

নখের যত্নের প্রতি অবহেলাও অনেক সময় মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বড় নখের কোণে জমে থাকা ময়লা থেকে অনিকোমাইকোসিসের মতো রোগ হতে পারে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের নখকুনি বা নখ পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বর্ষার শুরুতেই নখ ছোট ও সোজা করে কেটে রাখা উচিত। নখ কাটার পর নারকেল তেল বা টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করলে তা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।

যারা দীর্ঘ সময় আবদ্ধ জুতা ও মোজা পরেন, তাদের জন্য শতভাগ সুতির মোজা ব্যবহার করা শ্রেয়। সুতির তন্তু নিজের ওজনের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি আর্দ্রতা শোষণ করতে সক্ষম। প্রতিদিন পরিষ্কার ও শুকনো মোজা পরা এবং প্রয়োজনবোধে দিনে দুবার মোজা পরিবর্তন করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। স্যাঁতসেঁতে মোজা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরে থাকলে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে বাঁচতে সুতির মোজার পরিচ্ছন্ন ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের…

5 minutes ago

অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয়ের পর নাজমুলদের ফোন প্রধানমন্ত্রীর

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের…

20 minutes ago

অনুকূল পরিবেশ না হলে ভারত সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যর্পণসহ…

26 minutes ago

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া…

37 minutes ago

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত: চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটিতে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা…

45 minutes ago

যুদ্ধবিরতি নিয়ে কায়রোতে হামাসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করতে মিশরের কায়রোতে যাচ্ছে হামাসের…

1 hour ago

This website uses cookies.