ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের পর আকাশে দেখা গেল জেলিফিশ মেঘ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোনালদোর আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক সমালোচনা করলেন সাবেক সতীর্থ রুনি সন্তান হারিয়ে ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছাড়ল নিউজিল্যান্ডের পরিবার হবিগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ৪৫ ওমর সানী: পরিবার ও শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরব: উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

জীবননগরে চিকিৎসক সংকট, সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




জান্নাতুল ফাহিমা তানহা
নিজস্ব প্রতিনিধি :

চুয়াডাঙ্গা জেলা জীবননগর উপজেলায় তীব্র চিকিৎসক সংকট ও ঔষুধের অপ্রতুলতায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, ফলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, রোগীর উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, অনেক ক্ষেত্রে ১ জন কর্মী দিয়েই চিকিৎসা, ঔষুধ বিতরণ সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলার উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, আন্দলবাড়িয়া, সাহাপুর ও রায়পুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে দেখা যায়, উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আন্দলবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে মাত্র ১ জন করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মী দিয়ে পুরো সেবা চালানো হচ্ছে, এতে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফারজাহান মুক্তা বলেন, এখানে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন এসএসসিএমও, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন এমএলএসএস থাকার কথা, কিন্তু আমি একাই চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে শুরু করে ঔষুধ বিতরণ ও কেন্দ্রের অন্যান্য কাজ পরিচালনা করছি, গত ১১ বছর ধরে এখানে কর্মরত—ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজই একাই করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারীর সময় ১ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট ও পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ না থাকায় স্বাস্থ্য সেবার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা দূরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, যা তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জীবননগরে চিকিৎসক সংকট, সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা
নিজস্ব প্রতিনিধি :

চুয়াডাঙ্গা জেলা জীবননগর উপজেলায় তীব্র চিকিৎসক সংকট ও ঔষুধের অপ্রতুলতায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, ফলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, রোগীর উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, অনেক ক্ষেত্রে ১ জন কর্মী দিয়েই চিকিৎসা, ঔষুধ বিতরণ সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলার উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, আন্দলবাড়িয়া, সাহাপুর ও রায়পুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে দেখা যায়, উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আন্দলবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে মাত্র ১ জন করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মী দিয়ে পুরো সেবা চালানো হচ্ছে, এতে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

উথলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফারজাহান মুক্তা বলেন, এখানে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন এসএসসিএমও, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন এমএলএসএস থাকার কথা, কিন্তু আমি একাই চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে শুরু করে ঔষুধ বিতরণ ও কেন্দ্রের অন্যান্য কাজ পরিচালনা করছি, গত ১১ বছর ধরে এখানে কর্মরত—ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজই একাই করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারীর সময় ১ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট ও পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ না থাকায় স্বাস্থ্য সেবার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা দূরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, যা তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।