Header Premium (728×90)

Categories: প্রবাস

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর ঝুঁকির মুখে সস্তার হোটেল

কলকাতার নিউমার্কেটকে কেন্দ্র করে মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এলাকাটি যেন এক 'মিনি বাংলাদেশ'। শাড়ি ও জুতোর বড় বিপণি, মানি চেঞ্জার, বাসের টিকিট কাউন্টার এবং সুলভ হোটেল ও রেস্তোরাঁ থাকায় বাংলাদেশিদের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার প্রয়োজনে বা ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসে এই এলাকার সস্তার হোটেলগুলোতেই বেশি সময় কাটান।

তবে মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি এই হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শিখা ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ড সেখানকার অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। খোদ মন্ত্রীও এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, হোটেলগুলোর ঘর অত্যন্ত ঘিঞ্জি, করিডোর ও সিঁড়ি সংকীর্ণ, বায়ুচলাচল ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা অ্যালার্মের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জানালাবিহীন ঘরে খোলা বিদ্যুতের তার ঝুলে থাকতে দেখা যায়।

শিখা ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া ৮০ জন আবাসিক এখন ট্রমা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। শাহজাহান মিঞা নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। কুমিল্লার মামুনুল ইসলাম, যিনি ব্যবসার কাজে নিয়মিত কলকাতায় আসেন, জানান যে এই অঞ্চলের হোটেলগুলোতে সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিদের অনেক সময় এক মাস বা তার বেশি সময় থাকতে হয়, ফলে সস্তার হোটেল ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না। যশোরের মোহাম্মদ ইয়াকুব জানান, আতঙ্কিত হলেও চিকিৎসার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই তাদের এই ধরনের হোটেলে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহমেদের ভাষ্যমতে, অনেক বাড়ির মালিক বাড়ির অংশবিশেষ ভাড়া দিয়ে হোটেল বা গেস্টহাউস তৈরি করেছেন। পার্টিশন দিয়ে ঘুপচি ঘর বানিয়ে নির্বিচারে এসি লাগানো হয়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ। শিখা ইন যে ভবনটিতে ছিল, সেটি মূলত একটি বাসভবন ছিল, কিন্তু কবে থেকে সেখানে বাণিজ্যিক হোটেল ব্যবসা শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগ উঠেছে, সবকিছু জেনেও পৌরসভা ও দমকল বিভাগ এসব হোটেলকে অনুমতি দিয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি কানেকশন থেকেই অনেকগুলো এসি চালানোর মতো বিপজ্জনক ঘটনাও ঘটছে।

হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সংগঠনের কর্তা সুদেশ পোদ্দারের মতে, এখানকার ছোট হোটেলগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এবং কোনো ধরনের আইনকানুন মানছে না। শুক্রবার সকালেও বনগাঁ থেকে আসা অনেক বাংলাদেশি আগের মতোই এই এলাকায় পৌঁছেছেন, অনেকে মালপত্র রেখে অভিশপ্ত হোটেলটি দেখতে ছুটছেন, আবার অনেকে নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কলকাতার নিউমার্কেটকে ঘিরে মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড নিয়ে ৫০০ মিটার এলাকার সর্বত্র বাংলাদেশের ছাপ। হোটেল, রেস্তরাঁ, বাংলা খাবারের দোকান থেকে শুরু করে হাতের কাছে অগুনতি মানি চেঞ্জার, বাসের টিকিট কাউন্টার সবই এই অঞ্চলকে বাংলাদেশিদের থাকার জন্য আদর্শ জায়গা। শা

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। প্রায় ৬…

11 minutes ago

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি উদ্ধার…

14 minutes ago

আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস, বিপাকে আয়োজক জাপান

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৭ হাজারে পৌঁছানোয় ২০তম এশিয়ান গেমসের আবাসন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে আয়োজক দেশ…

16 minutes ago

নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দুঃস্থ ও মেধাবীদের মাঝে অনুদানের চেক ও সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ…

24 minutes ago

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে নেমে মোস্তাকিম হোসেন নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ…

24 minutes ago

বীরগঞ্জে বিপুল সার জব্দ, ম্যানেজারকে ৩ মাসের কারাদণ্ড

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে প্রশাসন। অভিযানে জনতা অটো…

25 minutes ago

This website uses cookies.