Header Premium (728×90)

পরিবেশ ও আবহাওয়া

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রে বিলীন ২৫ বসতঘর, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ক্রমাগত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫ বাড়ি সহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০ পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষ।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার কয়েকটি স্থানে গত তিন দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটে ২৫ বাড়িসহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ৬টি খুঁটি এবং শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।

চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙনে স্থানীয় আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আ. হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া, মোনছোর মেম্বারসহ অনেকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সময় ভাঙনের মুখে থাকা বাড়িঘর সরিয়ে নিতে দেখা যায় ভুক্তভোগীদের।

বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতিমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ব্যাপক ভাঙন আসলে সামান্য কিছু দিয়ে রক্ষা করা কঠিন। ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ হাজার ৫০০টি জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। তাই ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

saju

Share
Published by
saju

Recent Posts

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র…

10 hours ago

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার…

10 hours ago

ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে আরাবি হোসেন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে…

10 hours ago

অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

10 hours ago

প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ

প্রাণ গ্রুপ তাদের কাটিং (নিট পোশাক) বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। আগ্রহী যোগ্য…

10 hours ago

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন…

10 hours ago

This website uses cookies.