ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই প্রথম তাদেরই পরাস্ত করার দারুণ স্বাদ পেল টাইগাররা। পুরো চার দিন ধরে দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় সেরা প্রমাণ করে এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনলো বাংলাদেশ।
এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এক মিশ্র অনুভূতি এনে দিয়েছে। একদিকে ছিল প্রবল আশা, অন্যদিকে ছিল হারানোর ভয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রিতে বহু ভক্তের মন্তব্য ছিল, ‘কত কিছুই তো হতে দেখলাম!’ মুলতান টেস্টে ইনজামামের সেই যাত্রা থেকে শুরু করে ফতুল্লায় রিকি পন্টিং, এরপর চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অতিমানব হয়ে ওঠা— এমন অনেক ঘটনা চোখের সামনে দেখেছে সমর্থকরা, তাই শেষ হওয়ার আগে বিশ্বাস করতে পারছিল না কেউ।
তবে এই জয় এমনই এক ঘটনা, যা চোখের সামনে দেখেও যেন অবিশ্বাস চলে আসে মগজে। মাস দুয়েক আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছিল যে বাংলাদেশ দল, সেই একাদশের ৭ জনই ছিলেন এই ম্যাচে। এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচেও ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল আজকের এই দলটাই। এমন একটি দল যে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে চার দিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে হারিয়ে দেবে, তা কেউ ভাবেনি। অস্ট্রেলিয়াও যে ভাবেনি, তার প্রমাণ মারারা স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জ। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেছে, ম্যাচটি তিন দিনে শেষ হয়ে যাবে ভেবে ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটই কাটেননি কেউ, ফলে আজকের দিনটিতে জায়গাটি ফাঁকা পড়ে ছিল।
এই ঐতিহাসিক জয় কোনো একক নৈপুণ্যে আসেনি। প্রথম চমকটা দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করে দেন তিনি। এরপরও ব্যাটিংয়ে শঙ্কা ছিল, কারণ প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি দলের ঝুলিতে ছিল। তবে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত সেই শঙ্কা দূর করেন। তামিম সেঞ্চুরি করেন, আর শান্ত ৮৪ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন।
মাঝে ১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও, এরপরই দৃশ্যপটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে সেঞ্চুরি করে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এবার সেঞ্চুরি না করলেও তার পারফরম্যান্স দলকে এনে দেয় বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ রানের চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসে পেয়েছে মোটে দুইবার, তাও আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সেই তেতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে।
কাজটা তখনও অর্ধেক বাকি ছিল। বাকি কাজটা সারতে হতো বোলারদের। হাসান মাহমুদ আবারও শুরুর ধাক্কাটা দেন। তবে মূল স্পটলাইট কেড়ে নেন মিরাজ, একে একে ৫ উইকেট শিকার করে। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালেও, শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষমেশ ২৮৪ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় মামুলি ৫৭ রান। এই মামুলি লক্ষ্যে বাংলাদেশ পা হড়কায়নি। ১ উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুলের ব্যাটে চড়ে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের…
চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।…
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে…
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পথে স্টিভেন স্মিথ ও লিটন দাসের মধ্যে হওয়া…
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন।…
আরব ও ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে বলে আবারও জানিয়েছে ইরান।…
This website uses cookies.