নাচের দুনিয়ায় ক্যাটরিনার জয়যাত্রা, একসময় শুনতে হয়েছিল ‘শূন্য’
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বলিউডের নাচের গানে ক্যাটরিনা কাইফের উপস্থিতি এখন দর্শকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। ‘শিলা কি জওয়ানি’, ‘চিকনি চামেলি’, ‘কামলি’, ‘কালা চশমা’ কিংবা ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’—একের পর এক গানে তাঁর সাবলীল নাচ ও আত্মবিশ্বাস দর্শককে মুগ্ধ করেছে। পর্দায় তাঁর ছন্দের সঙ্গে তাল মেলানোর দক্ষতা দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে যে ক্যাটরিনা হয়তো শুরু থেকেই একজন দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পী ছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নাচ নিয়ে তাঁকে কম বিদ্রূপ সহ্য করতে হয়নি। এমনকি এক কোরিওগ্রাফার সরাসরি তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাচে শূন্য। তোমার নাচের চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ এই মন্তব্য ক্যাটরিনাকে মানসিকভাবে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, হয়তো তিনি নাচতে পারেন না।
কোরিওগ্রাফার বসকো মার্টিস ও সিজার গোমেজের পডকাস্টে সম্প্রতি ক্যাটরিনার এই সংগ্রামের দিনগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন পরিচালক ফারাহ খান। ফারাহ জানান, ‘তিস মার খান’ সিনেমার ‘শিলা কি জওয়ানি’ গানটি ক্যাটরিনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর আগে তিনি ‘টাচ মি’-সহ কয়েকটি গানে পারফর্ম করলেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাননি। ফারাহর মতে, সেই সময় ক্যাটরিনা নাচতে পারেন কি না, তা নিয়ে খোদ কোরিওগ্রাফারদের মধ্যেই সন্দেহ ছিল। ফারাহর সঙ্গে ক্যাটরিনার প্রথম কোরিওগ্রাফ করা গান ছিল ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া’ সিনেমার ‘জাস্ট চিল’। ফারাহ জানান, ‘শিলা কি জওয়ানি’র শুটিংয়ে মাত্র ১০ জন নৃত্যশিল্পী নিয়ে কাজ করার সময় ক্যাটরিনার মধ্যে যে পরিবর্তন ও তারকাসুলভ আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল, তা ছিল অভাবনীয়।
বসকো মার্টিস জানান, ক্যাটরিনা বরাবরই কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। সেই কোরিওগ্রাফারের কঠোর মন্তব্যের পর তিনি হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং নিজেকে আরও বেশি ঘষেমেজে তৈরি করেছেন। বসকো তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে তিনি ভালো নাচেন, শুধু নিজের ওপর আরেকটু কাজ করা প্রয়োজন। এই সামান্য উৎসাহই ক্যাটরিনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ‘অগ্নিপথ’ সিনেমার ‘চিকনি চামেলি’ গানে তাঁর আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী নাচ, ‘ধুম ৩’-এর ‘কামলি’ গানে শরীরের নমনীয়তা এবং ‘কালা চশমা’র পার্টি ধাঁচের নাচে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এর সঙ্গে ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’, ‘আফগান জালেবি’ ও ‘নাচদে নে সারে’-এর মতো গানেও তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
বর্তমানে ক্যাটরিনা বড় পর্দার ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে মাতৃত্বকালীন সময় উপভোগ করছেন। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ২০২৪ সালের ‘মেরি ক্রিসমাস’, যেখানে তিনি বিজয় সেতুপতির বিপরীতে অভিনয় করেন। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ওটিটিতে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে। একসময় যাঁকে নাচের জন্য ‘শূন্য’ বলা হয়েছিল, আজ তিনি বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।





























