এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই পাওয়ার আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ২৪ নভেম্বরের আগেই জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক) থেকে এই সিদ্ধান্ত চলে আসবে। অতিরিক্ত পাওয়া এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যে একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সরকার। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের পূর্বেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 'বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়' শীর্ষক এই সেমিনারটির যৌথ আয়োজন করে ইআরএফ এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)।
উত্তরণ পেছানোর বর্তমান অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে এবং পরবর্তীতে ইকোসকে সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও বাংলাদেশের বাড়তি সময় চাওয়ার যৌক্তিকতায় সম্মত হয়েছে। আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তিন বছর বাড়তি সময় প্রার্থনার কারণ উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিগত দিনে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। সেখানে বাস্তব সক্ষমতা বাড়নোর চেয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা ও নতুন সুবিধাগুলো কাজে লাগানোর মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি হয়নি। নতুন সময় পাওয়া গেলে তা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্য ও সেবার রপ্তানি ধরে রাখতে সরকারের চুক্তিভিত্তিক কৌশলের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আট থেকে দশটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম দফার কারিগরি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। উত্তরণের আগেই এই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে যাতে জিএসপি প্লাস সুবিধার ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসেপ) অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ এগোচ্ছে।
শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান বাধাগুলোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল। একটি নতুন উদ্যোগের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, প্রাথমিক ছাড়পত্র ও আমদানির নিবন্ধন সনদ থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতির এলসি খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন সময় পার হয়ে যায়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য ২০২৭ সালের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, আরজেএসসি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা, লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছরে উন্নীত করা এবং একাধিক সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের বদলে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশে নতুন বিনিযোগ ও উৎপাদন বজায় রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানের বিষয়টিতেও জোর দেন তিনি। গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, নতুন গ্যাসকূপ খনন ও সৌরবিদ্যুৎ খাত সচল করার উদ্যোগ চলছে। পাশাপশি আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইয়ের সিইও ড. মোস্তফা আবিদ খান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ইআরএফ কার্যনির্বাহী সদস্য এসএসএম মঈনুল হক।





























