Header Premium (728×90)

Categories: রাজধানী

গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছেন নগরবাসী

সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর জনজীবন। পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় রান্নার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছেন ঢাকা শহরের বাসিন্দারা। তবে এতে একদিকে যেমন নিয়মিত গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের বাড়তি দামের কারণে সেটিও অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, পল্লবী, মুগদা, মানিকনগর, ভাষানটেক এবং পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সকাল হলেই লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যায়। অনেক এলাকায় কেবল রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায়। ফলে কর্মজীবী মানুষ এবং স্কুলগামী শিশুদের সকালের নাস্তা তৈরিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে খাবার কিনে আনছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে বিকল্প ব্যবস্থা করছেন।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা শাকিল হোসেন জানান, মাসের শুরুতে বাড়িভাড়ার সঙ্গে গ্যাসের বিল দেওয়ার পরও রান্নার জন্য বিকল্প উপায়ে তার অতিরিক্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে গত সপ্তাহে একটি ইনফ্রারেড বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। একই চিত্র স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন রজনী বোস লেনের বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের। নিভু নিভু আগুনে রান্না করতে তার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। নাসরিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস না পেলেও বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। কয়েকদিন হোটেল থেকে খাবার কিনে খাওয়ানোর পর বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারই তার ভরসা।

মিরপুর ১ নম্বরের জোনাকী রোডের বাসিন্দা মিরন হোসেন জানান, গভীর রাতে গ্যাস আসলেও তখন ঘুমানোর সময় হওয়ায় রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই বৈদ্যুতিক চুলাই এখন তার একমাত্র ভরসা, যদিও লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝেমধ্যে সেটিও বন্ধ থাকে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ এলাকার টিনশেড ঘরের ভাড়াটিয়া ও অটোরিকশাচালক আলমগীর হোসেনের মতো নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে বৈদ্যুতিক চুলা বা সিলিন্ডার কেনা সম্ভব নয়। আলমগীর জানান, তার স্ত্রী রাতে না ঘুমিয়ে গভীর রাতে যখন গ্যাস আসে তখন রান্না শেষ করেন।

এই তীব্র সংকটের সুযোগে বাজারে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। গুলিস্তান ন্যাশনাল স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ী সামাদ মৃধা জানান, গত দেড় মাসে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে মানভেদে সিঙ্গেল ইনফ্রারেড চুলা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ডাবল ইনফ্রারেড চুলা ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিঙ্গেল ইন্ডাকশন চুলা পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকায়। নামি ব্র্যান্ডের চুলার দাম অন্যগুলোর চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি।

যাত্রাবাড়ী এলাকার ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের দোকানি তারেক হোসেন বলেন, সাধারণত শীতের সময় গ্যাসের চাপ কমে যায় তখন বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হয় বেশি। কিন্তু এবার গ্রীষ্মেই গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, তাই বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। বৈদ্যুতিক চুলায় মাসে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিল আসে। যা গ্যাস সিলিন্ডার তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী তাই সাধারণ ক্রেতারা এদিকেই বেশি ঝুঁকছে। আর রাইস কুকার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

নগরবাসীর অভিযোগ, মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়ার সঙ্গে গ্যাসের বিল পরিশোধ করেও রান্নার জন্য তাদের অতিরিক্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। কেউ বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন, কেউ রাইস কুকার ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে খাবার কিনে আনছেন। গ্যাস সংকটের কারণে কেনা বৈদ্যুতিক চুলায় পরিবারভেদে মাসে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল যোগ হচ্ছে।রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, পল্লবী, মুগদা, মানিকগর, ভাষানটেকসহ পুরান ঢাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। সকাল হলেই গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে ফলে অনেককে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় রান্নার জন্য। রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মিলে গ্যাস। ফলে কর্মজীবী মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। কর্মজীবী মানুষ ও স্কুলগামী শিশুদের জন্য সকালের নাস্তা তৈরিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শাকিল হোসেন। শাকিল হোসেন মাসের শুরুতে বাড়িভাড়ার সঙ্গে গ্যাস বিল দিয়ে এখন অতিরিক্ত আরও ৫-৬ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে রান্নার জন্য। শাকিল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট। রান্না করতে গিয়ে যুদ্ধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বাড়তি। ফলে বাধ্য হয়ে গত সপ্তাহে ইনফ্রারেড বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি। ফলে একদিক দিয়ে গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে অন্যদিক দিয়ে বিদ্যুৎ বিলও বাড়তি দিতে হচ্ছে। একই হাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন রজনী বোস লেনের বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের। নিভু নিভু আগুনে রান্না করতে করতেই ৩-৪ ঘণ্টা সময় চলে যায়। সবচেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় অফিসগামী স্বামী ও সন্তানদের জন্য নাস্তা তৈরিতে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে ঠিকমতোই গ্যাস বিল দিতে হয়। কয়েকদিন হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসতে হয়েছিল কিন্তু বাইরের খাবার খেয়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা আর রাইস কুকার দিয়ে রান্না করতে হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

নেপাল সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের নতুন ঝুঁকি, উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের

নেপাল সীমান্ত-সংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধার…

7 minutes ago

আগামী ৫ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে গরম

দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন…

12 minutes ago

আশুলিয়ায় পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান

সাভারের আশুলিয়ায় ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’ পত্রিকার সাইনবোর্ড ও সামাজিক সংগঠনের আড়ালে অবৈধভাবে নকল কনডম ও…

22 minutes ago

সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও ভারতের সেই সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম…

37 minutes ago

৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড

৮৯ বছর বয়সে নরওয়ের রাজা হারাল্ড মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার ভোরে অসলোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়…

53 minutes ago

নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা?

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঠামোগত সক্ষমতা…

1 hour ago

This website uses cookies.