ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন রবিউল ইসলাম নয়ন চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় ৫ লক্ষ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ সোনাগাজী পৌরসভার কোরবানি বর্জ্য ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কুমিল্লায় তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার বরুড়ায় ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ ঘৃণ্য অপরাধী এখনও পলাতক নওগাঁ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক ডিবি পুলিশের অভিযানে মিঠাপুকুরে ইয়াবা সহ ২ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক রংপুরে থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে বেগমগঞ্জে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

সৌদি থেকে মোবাইলে বিয়ে, দেশে ফিরে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে প্রবাসী

মোঃ কবির হোসেন জামালপুর।
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩ ৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

সৌদি থেকে মোবাইলে বিয়ে, দেশে ফিরে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে প্রবাসী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জামালপুরের মেলান্দহে ধর্ষণের অভিযোগে হামিদুল ইসলাম (২৩) নামে এক সৌদি আরব প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মেলান্দহ পুলিশ।
তবে ছেলের পরিবারের দাবি ভিকটিমকে সৌদি আরব থাকতেই মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলো। এতোদিন মেয়ে ও মেয়ের মা মিলে ছেলের রোজগার করা সব টাকা নিয়ে তাকে ফাসিয়েছেন।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে উপজেললার শ্যামপুর ইউনিয়নের পুর্ব শ্যামপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে মেলান্দহ থানায় ধষর্ণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা।

রোববার (২২ জানুয়ারী) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত হামিদুলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে ও ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃত মো. হামিদুল ইসলাম ওই এলাকার মো. আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। গত ১৪ তারিখ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামীও সৌদি আরবে থাকেন। তিনি তাঁর তিন মেয়েকে নিয়ে দেশে থাকেন। তাঁর কোনো ছেলে নেই। অভিযুক্ত হামিদুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন। সেখানে থাকার সময় মায়ের ফোন নম্বর জোগার করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন। এতে রাজি না হওয়ায় দেশে ফিরে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের হুমকি দিতেন। সম্প্রতি হামিদুল দেশে আসেন। ২১ জানুয়ারি দুপুরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মা মেলান্দহ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হামিদুল ও তাঁর সহযোগীরা মেয়েকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়িতে নিয়ে যান। নিজ ঘরে নিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেন হামিদুল। এরপর পরিবারের লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে হামিদুলকে আটক করেন এবং মেয়েকেও সেখানে পান। এরপর মা ৯৯৯-এ কল করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হামিদুল ও মেয়েকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারের অভাবের তাড়নায় তিন বছর আগে সৌদি আরব যায় হামিদুল। বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পরে মোবাইলে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পক গড়ে উঠে তাদের মাঝে। পরে তাদের মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে হয়। গত ১৪ তারিখ দেশে আসেন হামিদুল। তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভিকটিম ও অভিযোগকারী মা তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে অভিযোগকারী ঐ মেয়ের বাড়িতে দুই দিন থাকে হামিদুল। তাদের মাঝে মনমালিন্য হলে সেখান থেকে নিজ বাড়ীতে চলে আসেন হামিদুল। পরে মেয়ের পরিবারের সাথে সমঝোতার জন্য একটি বৈঠক হয়, তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি।

অভিযুক্তের বাবা আ. মালেক জানান, আমার ছেলে বিদেশে থাকতে মোবাইলেই ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে হয়েছিলো। গত শনিবার দুপুরে মেয়ে ও মেয়ের মা আমার বাড়িতে এসে মেয়েকে রেখে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে পুলিশ এনে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়।

বিয়ে হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন শ্যামপুর ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকও তিনি বলেন, ”হামিদুল সৌদি আরবে থাকতো ১৪ তারিখে দেশে এসেছে সে। ঐ মেয়ের সাথে তার ফোনেই বিয়ে হয়েছিলো।”

ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা হলে তিনি কিছু না জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত হামিদুলের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম ও হামিদুলকে আটক করে থানায় আনে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে রাতে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। রোববার দুপুরে হামিদুল-কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে ও মেয়েকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সৌদি থেকে মোবাইলে বিয়ে, দেশে ফিরে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে প্রবাসী

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩
print news

জামালপুরের মেলান্দহে ধর্ষণের অভিযোগে হামিদুল ইসলাম (২৩) নামে এক সৌদি আরব প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মেলান্দহ পুলিশ।
তবে ছেলের পরিবারের দাবি ভিকটিমকে সৌদি আরব থাকতেই মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলো। এতোদিন মেয়ে ও মেয়ের মা মিলে ছেলের রোজগার করা সব টাকা নিয়ে তাকে ফাসিয়েছেন।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে উপজেললার শ্যামপুর ইউনিয়নের পুর্ব শ্যামপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে মেলান্দহ থানায় ধষর্ণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা।

রোববার (২২ জানুয়ারী) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত হামিদুলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে ও ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃত মো. হামিদুল ইসলাম ওই এলাকার মো. আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। গত ১৪ তারিখ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামীও সৌদি আরবে থাকেন। তিনি তাঁর তিন মেয়েকে নিয়ে দেশে থাকেন। তাঁর কোনো ছেলে নেই। অভিযুক্ত হামিদুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন। সেখানে থাকার সময় মায়ের ফোন নম্বর জোগার করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন। এতে রাজি না হওয়ায় দেশে ফিরে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের হুমকি দিতেন। সম্প্রতি হামিদুল দেশে আসেন। ২১ জানুয়ারি দুপুরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মা মেলান্দহ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হামিদুল ও তাঁর সহযোগীরা মেয়েকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়িতে নিয়ে যান। নিজ ঘরে নিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেন হামিদুল। এরপর পরিবারের লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে হামিদুলকে আটক করেন এবং মেয়েকেও সেখানে পান। এরপর মা ৯৯৯-এ কল করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হামিদুল ও মেয়েকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পরিবারের অভাবের তাড়নায় তিন বছর আগে সৌদি আরব যায় হামিদুল। বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পরে মোবাইলে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পক গড়ে উঠে তাদের মাঝে। পরে তাদের মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে হয়। গত ১৪ তারিখ দেশে আসেন হামিদুল। তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভিকটিম ও অভিযোগকারী মা তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে অভিযোগকারী ঐ মেয়ের বাড়িতে দুই দিন থাকে হামিদুল। তাদের মাঝে মনমালিন্য হলে সেখান থেকে নিজ বাড়ীতে চলে আসেন হামিদুল। পরে মেয়ের পরিবারের সাথে সমঝোতার জন্য একটি বৈঠক হয়, তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি।

অভিযুক্তের বাবা আ. মালেক জানান, আমার ছেলে বিদেশে থাকতে মোবাইলেই ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে হয়েছিলো। গত শনিবার দুপুরে মেয়ে ও মেয়ের মা আমার বাড়িতে এসে মেয়েকে রেখে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে পুলিশ এনে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়।

বিয়ে হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন শ্যামপুর ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকও তিনি বলেন, ”হামিদুল সৌদি আরবে থাকতো ১৪ তারিখে দেশে এসেছে সে। ঐ মেয়ের সাথে তার ফোনেই বিয়ে হয়েছিলো।”

ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা হলে তিনি কিছু না জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত হামিদুলের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম ও হামিদুলকে আটক করে থানায় আনে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে রাতে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। রোববার দুপুরে হামিদুল-কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে ও মেয়েকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।