বিষাক্ত জেনেও ছাড়তে পারেনি তামাক চাষের মায়া
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ কবির হোসেন,জামালপুরঃ
জামালপুরের মেলান্দহে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের তামাক চাষে কমেনি আগ্রহ। তামাকের চাষ ছাড়ছেন না কৃষকেরা। অন্য ফসলেও চাষ করতে চান না তাঁরা।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন,’ উপজেলার শেখ সাদী ও রৌমারী বিলে তামাক চাষ হয়। কৃষকদের তামাক চাষের কুফল ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর সম্পর্কে বোঝানো হচ্ছে। এবং তামাকের বদলে ধান চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে ওই তামাক চাষিরা বলছেন,’ধান চাষে থেকে তামাক চাষে লাভবান হচ্ছে বেশি কৃষকেরা তাই এখনও তামাক চাষের মায়া ছাড়তে পারেনি কেউ। ধান চাষ করলে তেমন লাভ হয় না তাই তামাক চাষ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী ও রৌমারী এলাকায়
সবচেয়ে বেশি তামাক চাষ হয়। উপজেলায় এ বছরের ২০ হেক্টর তামাক চাষ হয়েছে। যে জায়গাটি তামাক চাষ করা হয়েছে সেই জায়গাটির ধানের জন্য উপযোগী জায়গা। ধান চাষের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান চাষে ভালো ফলনও লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা তবুও কিছু কৃষক তামাক চাষ করছে।
ওই এলাকায় ধান চাষের নিয়ে কথা হলে কৃষকদের জানা যায়,’ শেখ সাদী এলাকা ও রৌমারী বিলে ধান চাষের জন্য ভালো উপযোগী জায়গা। ধান চাষে ভালো ফলন হয়। ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ১ বিঘা জমিতে ধান হয় ২৫ থেকে ২৮ মণ। এবছরের ধান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ। ধান চাষেও লাভবান হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।
তবে শেখ সাদী ও রৌমারী এলাকার তামাক চাষিরা বলছেন, তামাক ছাড়া অন্য সকল চাষে যে পরিমাণ চাষে খরচ লাগে তাঁর তুলনায় তামাক চাষে খরচ অনেক কম হয়। তামাক চাষের লাভ বেশি থাকে। তামাক চাষের সার তেমন লাগে না একবার সার দিলেই হয়। তামাকের পাতা বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না বাড়ি থেকে বিক্রি হয় লাভটা অনেক বেশি। তাই ধান চাষ করতে চাই না।
সরেজমিনে উপজেলার শেখ সাদী, রৌমারী বিল এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তামাক খেত। কেউ তামাক গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউ তামাক গাছের ছোট পাতা কাটছেন, আবার সার খেতে দিচ্ছেন কেউ।
তামাক চাষি গোলাপ নবী বলেন,’৮-৯ বছর ধরে
ধরে তামাক চাষ করি। এবার ৩৫ শতাংশ জমিতে করেছেন। তামাক চাষ খরচ কম হয় লাভ বেশি হয়। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। আর বিক্রি করতে পারবো ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি করার জন্য বাজারে বা বাহিরে যেতে হবে না বাড়ি থেকেই তামাক পাতা বিক্রি হয়।
শেখ সাদী এলাকার তামাক চাষী মুজিবর বলেন,’ আমার বাপ দাদারাও এই তামাক চাষ করত। আমরাও তামাক চাষ করি। জানি তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তবুও লাভ টা একটু বেশি তাই তামাক চাষ করি। এ বছরের যদি শিলাবৃষ্টি না হয় তাহলে বেশ লাভবান হবো আমরা।
ঝাউগড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম ফকির বলেন,’শেখ সাদী এলাকায় অনেক আগে থেকেই তামাক চাষ হয়। বাপ দাদার আমল থেকে দেখি এই এলাকায় চাষ হয় তামাক। তাই চাষ কেউ সহজে ছাড়তে পারছে না। তামাক কোম্পানির লোক গুলো বাড়ি থেকে এসে তামাক কিনে নিয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন,’তামাক বিক্রির নিশ্চয়তা এবং ভালো দাম পাওয়ার কারণে তামাক চাষ কমানো যাচ্ছে না। তামাকের প্রতি পাতা ১২ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করে কৃষকেরা তাই তাঁরা ছাড়তে চায় না অধিক লাভজনক হাওয়ায়। তামাকের ক্ষতিকর বিষয় নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছে তবুও কৃষকেরা ছাড়ছে না। তামাক চাষ কমিয়ে আনতে আমরা সব সময় কাজ করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন,’তামাক স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তামাক ভাঙার সময় তামাকের গুঁড়া বাতাসের সঙ্গে মানুষের শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তামাক ফুসফুসে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। এবং ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।























