ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলগাজীর আমজাদহাটে জাল টাকার নোট সহ আটক-১ কুমিল্লায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ যুবক নিহত চাঁদপুর কালিবাড়ি মোড়ে কাশ্মীরি সুইটস এন্ড লাইফ বেকারিতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি-ভাঙচুর-লুটপাটে আহত ১৫ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দিনাজপুরে ভুল সেটে পরীক্ষা, সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা পুলিশ কর্তৃক অংশগ্রহণ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত ১,৬৯,০০০ টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ অসহায়-দুঃস্থ্য শ্রমিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৬৮ লক্ষ টাকার চেক হস্থান্তর সাভার মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে চালকদের বিক্ষোভ

মাদারীপুরে থামছে না মানব পাচার বাড়ছে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা

যখন সময় ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যখন সময় ডেস্ক রিপোর্ট

মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়লেও মাদারীপুরে কিছুতেই কমছে না মানবপাচার, উচ্চ বেতনের চাকরি আর পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে বাঁচার আশায় প্রতিনিয়ত অনেকেই অবৈধ ভাবে সমুদ্র পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, অনেককে বন্দিশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হাসানকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক খানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পেশায় কসমেটিকস ব্যবসায়ী তার ১ মাত্র ছেলে রাকিব খানকে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখায় একই এলাকার কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে লিটন ও রিপন মাতুব্বর, ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তিতে বলা হয়, কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিমান পথে রাকিবকে ইতালিতে পৌঁছে দেয়া হবে।

তবে পুরো টাকা পরিশোধের পর ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল তাকে ইতালির পরিবর্তে নিয়ে যাওয়া হয় মৌরিতানিয়ায়, স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে রাকিবকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় আরও ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ, এরপর ওই বছরের ১০ তারিখ থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার।

বিচারের আশায় আদালতে মামলা করলেও উল্টো দালাল চক্র রাজ্জাক খানের বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও ফরিদপুরে ২টি মামলা করেছে, ১ মাত্র ছেলের সন্ধান না পেয়ে, উল্টো মামলার হয়রানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী রাজ্জাক খান বলেন, ২ বছর ধরে আমার ছেলের কোনো খোঁজ নেই, মামলা করায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে ২টি মামলা দেয়া হয়েছে, আমি এখন অসহায় হয়ে গিয়েছি, দালাল চক্র ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছে, আমার ছেলে নিখোঁজ, আর ধারদেনা করে দেয়া টাকাও গিয়েছে, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরো জানা গিয়েছে, একই দালালচক্রের মাধ্যমে বন্দিশালায় আটকা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন ইশিবপুরের পিয়াস মাতুব্বর, চরমুগরিয়া এলাকার মীর ফরিদ উদ্দিন ও আল আমিন মিয়া।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি, এসব ঘটনায় রফিক সরদার ও শরিফ উদ্দিন বেপারী ও জড়িত, লক্ষ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নেয়ার পর চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

নিখোঁজ পিয়াসের মা খাদিজা বেগম বলেন, রিপন মাতুব্বর ও লিটন মাতুব্বর আমার ছেলেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে, ছেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করেছে, কিন্তু ২ বছর ধরে আমার ছেলের কোনো খোঁজ খবর নেই, দালালরা ও এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, আমি বিচার চাই পাশাপাশি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আগে এই মাফিয়া চক্র যুবকদের লিবিয়ার ভিসা দিয়ে সেখানে নিয়ে গিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ইতালি পাঠাতো, মাঝপথে নৌকাডুবিতে অনেকের মৃত্যু হতো, বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর লিবিয়ার ভিসা বন্ধ হয়ে যায়, এরপর বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের ভিসায় যুবকদের সেখানে নেয়া হয়, পরে সৌদি আরব থেকে লিবিয়ার ভিসা তৈরি করে তাদের পাঠানো হয় লিবিয়ায়, সেখানে বন্দিশালায় আটকে শুরু হয় নির্যাতন, সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আদায় করা হয় মুক্তিপণের লক্ষ লক্ষ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদারীপুরের ৫টি থানা ও মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলা দায়ের হয়।

মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, অবৈধ ভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, এসব ঘটনায় নিয়মিত মানব পাচার আইনে মামলা হচ্ছে, অনেককে গ্রেফতার ও করা হয়, কিন্তু পরে তারা জামিনে বের হয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে, মামলার বিচার দ্রুত শেষ না হওয়ায় অপরাধও কমছে না।

দোষীদের দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় মানব পাচারের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে, মামলা হলে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়, এরপর আদালতে পাঠানো হয়, কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধ ভাবে সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছর গড়ে অর্ধশত যুবকের মৃত্যু হয়, আর নিখোঁজ হন শতাধিক মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মাদারীপুরে থামছে না মানব পাচার বাড়ছে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
print news

যখন সময় ডেস্ক রিপোর্ট

মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়লেও মাদারীপুরে কিছুতেই কমছে না মানবপাচার, উচ্চ বেতনের চাকরি আর পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে বাঁচার আশায় প্রতিনিয়ত অনেকেই অবৈধ ভাবে সমুদ্র পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, অনেককে বন্দিশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হাসানকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক খানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পেশায় কসমেটিকস ব্যবসায়ী তার ১ মাত্র ছেলে রাকিব খানকে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখায় একই এলাকার কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে লিটন ও রিপন মাতুব্বর, ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তিতে বলা হয়, কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিমান পথে রাকিবকে ইতালিতে পৌঁছে দেয়া হবে।

তবে পুরো টাকা পরিশোধের পর ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল তাকে ইতালির পরিবর্তে নিয়ে যাওয়া হয় মৌরিতানিয়ায়, স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে রাকিবকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় আরও ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ, এরপর ওই বছরের ১০ তারিখ থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার।

বিচারের আশায় আদালতে মামলা করলেও উল্টো দালাল চক্র রাজ্জাক খানের বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও ফরিদপুরে ২টি মামলা করেছে, ১ মাত্র ছেলের সন্ধান না পেয়ে, উল্টো মামলার হয়রানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী রাজ্জাক খান বলেন, ২ বছর ধরে আমার ছেলের কোনো খোঁজ নেই, মামলা করায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে ২টি মামলা দেয়া হয়েছে, আমি এখন অসহায় হয়ে গিয়েছি, দালাল চক্র ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছে, আমার ছেলে নিখোঁজ, আর ধারদেনা করে দেয়া টাকাও গিয়েছে, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরো জানা গিয়েছে, একই দালালচক্রের মাধ্যমে বন্দিশালায় আটকা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন ইশিবপুরের পিয়াস মাতুব্বর, চরমুগরিয়া এলাকার মীর ফরিদ উদ্দিন ও আল আমিন মিয়া।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি, এসব ঘটনায় রফিক সরদার ও শরিফ উদ্দিন বেপারী ও জড়িত, লক্ষ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নেয়ার পর চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

নিখোঁজ পিয়াসের মা খাদিজা বেগম বলেন, রিপন মাতুব্বর ও লিটন মাতুব্বর আমার ছেলেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে, ছেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করেছে, কিন্তু ২ বছর ধরে আমার ছেলের কোনো খোঁজ খবর নেই, দালালরা ও এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, আমি বিচার চাই পাশাপাশি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আগে এই মাফিয়া চক্র যুবকদের লিবিয়ার ভিসা দিয়ে সেখানে নিয়ে গিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ইতালি পাঠাতো, মাঝপথে নৌকাডুবিতে অনেকের মৃত্যু হতো, বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর লিবিয়ার ভিসা বন্ধ হয়ে যায়, এরপর বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের ভিসায় যুবকদের সেখানে নেয়া হয়, পরে সৌদি আরব থেকে লিবিয়ার ভিসা তৈরি করে তাদের পাঠানো হয় লিবিয়ায়, সেখানে বন্দিশালায় আটকে শুরু হয় নির্যাতন, সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আদায় করা হয় মুক্তিপণের লক্ষ লক্ষ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদারীপুরের ৫টি থানা ও মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলা দায়ের হয়।

মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, অবৈধ ভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, এসব ঘটনায় নিয়মিত মানব পাচার আইনে মামলা হচ্ছে, অনেককে গ্রেফতার ও করা হয়, কিন্তু পরে তারা জামিনে বের হয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে, মামলার বিচার দ্রুত শেষ না হওয়ায় অপরাধও কমছে না।

দোষীদের দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় মানব পাচারের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে, মামলা হলে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়, এরপর আদালতে পাঠানো হয়, কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধ ভাবে সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছর গড়ে অর্ধশত যুবকের মৃত্যু হয়, আর নিখোঁজ হন শতাধিক মানুষ।