ফুলগাজীতে অবসরের পর অনাথ অসুস্থ ও অভাবী টিপুর রমজানের নিঃশব্দ কষ্ট
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা,
নিজেস্ব প্রতিনিধি:
ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের রমজানের বিকেলে চারদিকে ইফতারের প্রস্তুতি চললেও একটি ছোট ঘরে নিঃশব্দে শুয়ে আছেন ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম টিপু।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও পায়ে পানি জমে থাকায় তিনি ঠিক মতো দাঁড়াতে পারেন না, স্ত্রী জাহেদা আক্তার পাশে বসে তার সেবা করছেন।
মীর কাসেম টিপু দীর্ঘদিন মুন্সীরহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ২০২২ সালে অবসরে গেলেও প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পাননি অবসর জনিত কোনো আর্থিক সুবিধা, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, টিপুর পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, বড় মেয়ে জোবেদা আক্তারের দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে বাবার কাছেই থাকছেন, বড় ছেলে রুহুল আমিন নিজাম এক সময় বিদেশে গেলেও পরে সংসার ছেড়ে চলে যান, ছোট ছেলে নুরুল আমিন শিপু অনিয়মিত কাজ করে পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।
প্রায় ২ বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ফেনীতে চিকিৎসা নেন, চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থা ভাবে তা সম্ভব হয়নি।
তার স্ত্রী জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,
বর্তমানে তারা উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম হুজুরের বাড়ির একটি ছোট ঘরে মাসে এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করছেন, অসুস্থতার কারণে টিপুকে অধিকাংশ সময় বিছানাতেই থাকতে হয়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সামান্য সহায়তায় কোন রকমে তাদের সংসার চলছে।
টিপুর সহপাঠী ও প্রতিবেশী রহিম উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষকে এভাবে কষ্টে দিন কাটাতে দেখা খুবই বেদনা দায়ক।
মুন্সীরহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, টিপুর অবসর জনিত কাগজপত্র কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে, ফান্ডিং জটিলতার কারণে এখনো অর্থ প্রদান সম্ভব হয়নি, তবে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা করা হয়েছে,
অসুস্থ শরীর ও আর্থিক সংকট নিয়ে অন্যের ঘরের একটি ছোট কক্ষে দিন কাটাচ্ছেন মীর কাসেম টিপু, রমজানের এই পবিত্র সময়ে তার একটাই আশা চিকিৎসার সুযোগ ও একটু সহায়তার হাত।



























