ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত খুলনায় নিজ রাইফেলের গুলিতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা বৈশাখের ঝড় ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বাধা দিলেন ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ আমজাদহাটে জনমনে স্বস্তি

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চে জুতা পায়ে এমপিসহ অতিথিরা

মোঃ কবির হোসেন জামালপুর
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৫০ বার পড়া হয়েছে

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চে জুতা পায়ে এমপিসহ অতিথিরা

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মঞ্চে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় অনেকে ক্ষুদ্ধ হন।
অনুষ্ঠান উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। সেখানে মূল শহীদ মিনারটি কাপড় দিয়ে পেছনে ফেলা হয়েছে। আর বেদিতে মঞ্চ করা হয়েছে। অতিথিদের সামনে বিশাল টেবিল এবং চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশেই বক্তব্য দেওয়ার জন্যে মাইকের স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ সকল অতিথি একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ.কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো.আবুল কায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো.মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, সহসভাপতি মো.শাহজাহান আলী, সহসভাপতি মো.সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
জামালপুরের ভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,‘ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শদীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্যকোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণা করা ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যাঁরা এ ধরণের আচরণ করবে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিৎ।’
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম বলেন,‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আর সবাইতো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।
বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন,‘প্রত্যেক বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি উঠে, তাহলে আর কি।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন বলেন,‘সেটা যে শহিদ মিয়ান, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি-সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলতো, সেটা শহিদ মিনার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চে জুতা পায়ে এমপিসহ অতিথিরা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
print news

জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মঞ্চে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় অনেকে ক্ষুদ্ধ হন।
অনুষ্ঠান উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। সেখানে মূল শহীদ মিনারটি কাপড় দিয়ে পেছনে ফেলা হয়েছে। আর বেদিতে মঞ্চ করা হয়েছে। অতিথিদের সামনে বিশাল টেবিল এবং চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশেই বক্তব্য দেওয়ার জন্যে মাইকের স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ সকল অতিথি একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ.কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো.আবুল কায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো.মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, সহসভাপতি মো.শাহজাহান আলী, সহসভাপতি মো.সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
জামালপুরের ভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,‘ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শদীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্যকোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণা করা ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যাঁরা এ ধরণের আচরণ করবে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিৎ।’
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম বলেন,‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আর সবাইতো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।
বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন,‘প্রত্যেক বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি উঠে, তাহলে আর কি।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন বলেন,‘সেটা যে শহিদ মিয়ান, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি-সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলতো, সেটা শহিদ মিনার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।