ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ২৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি সাংবাদিক রফিকের পিতা হত্যা মামলার আসামিরা, পরিবারের ক্ষোভ নাজিরহাট এলাকায় যৌথ অভিযানে বালুমহলে জরিমানা আদায় রূপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত “বৈষম্যহীন মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি আদর্শের বিকল্প নেই” মিরসরাইয়ে বেপরোয়া গতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ১ নারী নিহত ফেনীতে কিস্তির টাকার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যায় রাজমিস্ত্রী গ্রেফতার কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন বেরোবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ টঙ্গীতে নিজস্ব নির্মাণাধীন ভবন থেকে যুবকের ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা কেন জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ ইসমাইল হোসেন
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা কেন জরুরি

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

 

স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ ইসমাইল হোসেন

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ করা যায়—রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের উপর নির্ভর করে। বিরোধী কণ্ঠ দমন, মিছিল-মিটিং দমন, কিংবা ভিন্নমতের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা যেন একটি নৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

তবে ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রশাসন যখন শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় কিংবা নিরপেক্ষ থাকে, তখনই স্বৈরাচার বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। প্রশাসনের এই ‘বেঁকে বসা’ বলতে বোঝানো হয়—আইনের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়তা।

অন্যদিকে, যখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল বা অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন চরমপন্থী গোষ্ঠী, ষড়যন্ত্রকারী শক্তি এবং অসাংবিধানিক উপাদানরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও অনিরাপত্তা বেড়ে যায়।

এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বাহিনীর নিরপেক্ষতা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে?

একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে—জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছে , যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বাহিনীগুলোর কার্যক্রম দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা নিশ্চিত করার ব্যাপারে ঐক্য মতে আসা এবং তা বাস্তবায়ন করা।

এ কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ ও মূল্যায়ন তদারকি করে, তাহলে কোনো সরকারই বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। একইসাথে, বাহিনীগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং চরমপন্থী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।

সংক্ষেপে বললে,
১. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাষ্ট্র রক্ষায় অপরিহার্য।
২. এই বাহিনীর দুর্বলতা রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
৩. সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।

আমরা আশা করি, জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করবেন এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী কাঠামো গঠনে উদ্যোগী হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা কেন জরুরি

আপডেট সময় : ১১:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
print news

 

স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ ইসমাইল হোসেন

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ করা যায়—রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের উপর নির্ভর করে। বিরোধী কণ্ঠ দমন, মিছিল-মিটিং দমন, কিংবা ভিন্নমতের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা যেন একটি নৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

তবে ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রশাসন যখন শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় কিংবা নিরপেক্ষ থাকে, তখনই স্বৈরাচার বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। প্রশাসনের এই ‘বেঁকে বসা’ বলতে বোঝানো হয়—আইনের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়তা।

অন্যদিকে, যখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল বা অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন চরমপন্থী গোষ্ঠী, ষড়যন্ত্রকারী শক্তি এবং অসাংবিধানিক উপাদানরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও অনিরাপত্তা বেড়ে যায়।

এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বাহিনীর নিরপেক্ষতা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে?

একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে—জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছে , যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বাহিনীগুলোর কার্যক্রম দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা নিশ্চিত করার ব্যাপারে ঐক্য মতে আসা এবং তা বাস্তবায়ন করা।

এ কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ ও মূল্যায়ন তদারকি করে, তাহলে কোনো সরকারই বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। একইসাথে, বাহিনীগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং চরমপন্থী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।

সংক্ষেপে বললে,
১. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাষ্ট্র রক্ষায় অপরিহার্য।
২. এই বাহিনীর দুর্বলতা রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
৩. সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।

আমরা আশা করি, জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করবেন এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী কাঠামো গঠনে উদ্যোগী হবেন।