“কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন মানা হবে না: হেফাজত আমির”
- আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরী বলেন, “কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পুনর্গঠনের দাবি জানান।
তিনি জানান, হেফাজতে ইসলাম নারীদের যথার্থ অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।
শনিবার (৩ মে) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরা হয়। আমিরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
সমাবেশে নারী সংস্কার কমিশনের “কোরআন-সুন্নাহবিরোধী” প্রতিবেদনের প্রতিবাদে কমিশন বাতিল, সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়ের করা মামলার প্রত্যাহার, শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের বিচার এবং ফিলিস্তিন-ভারতে মুসলিম নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানানো হয়।
আমির বাবুনগরী বলেন, “আরাকান সীমান্তে করিডোর তৈরির নামে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এই বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়ে জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
তিনি নারী সংস্কার কমিশনের বিরুদ্ধে পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।
ভারতীয় ফ্যাসিবাদ ও দেশের ‘আওয়ামী দালালদের’ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হেফাজত আমির বলেন, “দেশে কোনো ফ্যাসিস্টের ঠাঁই হবে না। সংখ্যালঘুদের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গত ১৫ বছর দেশের জনগণ প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি। ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।”
মহাসমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন— দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ভারতীয় আলোচিত ইসলামি বক্তা ও জৌনপুরের পীর ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— নায়েবে আমির মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসীম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, সরোয়ার কামাল আজিজি, মহিউদ্দিন রাব্বানী, আহমেদ আলী কাসেমী, মাহবুব জাকারিয়া প্রমুখ।
যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— মাওলানা মামুনুল হক, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, জুনায়েদ আল হাবিব, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, সৈয়দ ইসহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের, মুফতি খলিলুর রহমান নেছারাবাদী এবং মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ।
ঘোষণা করা হলো দুই দফা নতুন কর্মসূচি:
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান মহাসমাবেশের শেষাংশে দুটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন—
১. ২৩ মে: কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ৪ দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ।
২. আগামী তিন মাস: নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ।






















