Header Premium (728×90)

Categories: কৃষি

টাঙ্গাইলে কলার চাষে নীরব বিপ্লব, সমৃদ্ধ হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

টাঙ্গাইল জেলায় কলার চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় জেলার পাহাড়ি অঞ্চল ও যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কলার বাগান গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগে যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, এখন সেখানে সুস্বাদু অমৃতসাগর, মেহেরসাগর, চাম্পা ও সবরি কলার চাষ হচ্ছে। তবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাতেই কম-বেশি কলার চাষ হচ্ছে। তবে মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকা এবং ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতীর চরাঞ্চলে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার চাষ হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন নদী ও সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার কলার চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে মধুপুরের মেহেরসাগর কলা।

কলা চাষের বাস্তব অভিজ্ঞতা জানিয়ে ঘাটাইলের জোড়দিঘী এলাকার চাষি রহমত আলী বলেন, জমির লিজসহ প্রতি ছড়ি কলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। বাজারে তা সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। তবে তিনি হিসাব করে জানান, এক বিঘায় প্রায় ৩৫০টি কলার গাছ লাগানো হলেও সব গাছ থেকে ফলন পাওয়া যায় না। বিক্রির সময় প্রায় ৫০টি গাছের ক্ষতি ধরে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে হয়।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কলা চাষ করছেন চাষি আমিরুল ইসলাম। বর্তমানে তার তিন একর জমিতে কলার বাগান রয়েছে এবং এ বছর তিনি আরও চার একর জমিতে চাষ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "কলা চাষ বেশ লাভজনক। প্রতি গাছে প্রায় ২০০ টাকা খরচ করে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। তবে সিগাটোকা রোগের কারণে পাতাগুলো মরে লাল হয়ে যায়। এই রোগ না হলে চাষে আরও ভালো লাভ করা সম্ভব।"

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, কৃষকদের উন্নত জাতের কলা সরবরাহের লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সহায়তামূলক প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব জমিতে পানামা বা সিগাটোকা রোগের প্রকোপ দেখা দেয়, সেখানে কৃষকদের বিকল্প হিসেবে পেঁপে, আখ ও তরমুজ চাষের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার স্থাপন করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টাঙ্গাইলের কলা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

Recent Posts

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক…

39 seconds ago

লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ…

4 minutes ago

যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে পরাজিত…

12 minutes ago

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই…

21 minutes ago

জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং…

28 minutes ago

পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতির দাবি করা হলেও বাস্তবে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও…

34 minutes ago

This website uses cookies.