আসামে ১১০০ বাড়ি ও ১০ মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা
- আপডেট সময় : ০৫:১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের আসাম রাজ্যে বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী এবং সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এই প্রতিবাদ জানান। তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস বিবেচনা করে তাদের পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আসামের সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদ অভিযানকে ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতা হিসেবে অভিহিত করেন।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান উল্লেখ করেন, যদিও ভারত সরকার এই উচ্ছেদকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি উদ্ধারের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, তবুও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘদিনের বসবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তিনি উচ্ছেদ হওয়া মসজিদগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দেন।
ওলামা অ্যালায়েন্সের মতে, কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং তাদের জানমাল অনিরাপদ করে তোলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা মন্তব্য করেন যে, ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানে কেন্দ্র সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ ভারতের সংবিধানে উল্লেখিত প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া আসামের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।



























