ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরো সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ ভোলায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এনসিপির নেতাকর্মীরা টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত করার ইঙ্গিত দিলেন ইলন মাস্ক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি, বাতিল ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা ভারতীয় শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ ট্যারিফ কমিশনের

অ্যান কারসনের প্রবন্ধ: পৃষ্ঠারা যখন প্রেম করে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী অ্যান কারসনের গদ্যের বই ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট: অ্যান এসে’ থেকে ‘মাই পেইজ মেইকস লাভ’ প্রবন্ধটি দৈনিক এদিন অনলাইন পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করেছে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে পাঠক পৃষ্ঠাদের প্রেমের গোপন কথা ও সাহিত্যের গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের ঔপন্যাসিক লঙ্গুস তার ‘ড্যাফনিস ও ক্লোয়ি’ উপন্যাসের ভূমিকায় এক ত্রিমুখী টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রেমদেবতা ইরোসের একটি ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে সেই সৌন্দর্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের উপন্যাসটি রচনা করেন। এখানে লঙ্গুসের উপন্যাসটি যেন শব্দের তৈরি আরেকটি ছবি, যা প্রথম ছবির সমকক্ষ হতে চায়। এই দুই ছবির মাঝখানে কাজ করে ‘পোথোস’—যা এক ধরনের আকুলতা বা আকাঙ্ক্ষা। রূপকের জন্মও এভাবেই হয়, যেখানে মন পরিচিত কিছুর সীমানা পেরিয়ে অনুপস্থিত কিছুর দিকে ধাবিত হয়।

মন্তেন লিখেছিলেন, ‘আমার পৃষ্ঠা প্রেম করে, আর প্রেমকে অনুভব দিয়ে বোঝে।’ লঙ্গুসের পৃষ্ঠা পাঠকের সঙ্গে প্রেম করে গল্পের চরিত্রদের আবেগের মধ্যে টেনে নিয়ে। তবে এটি কেবল উপরিতলের ঘটনা নয়; বরং দুটি ভিন্ন জগতকে রূপকের মাধ্যমে কাছাকাছি নিয়ে আসার গভীর প্রয়াস। ড্যাফনিস ও ক্লোয়ি উপন্যাসের কিশোর-কিশোরীরা প্রেম আবিষ্কার করে, এবং তাদের প্রতিটি কাজ প্রতীকের ইঙ্গিত বহন করে। উপন্যাসের শেষ দিকে ইরোসের গুহায় তাদের বিয়ে যেন প্রতীকী বিকাশেরই চূড়ান্ত রূপ।

ড্যাফনিস ও ক্লোয়ির মিলন মুহূর্তে লঙ্গুস আপেলের একটি প্রতীক ব্যবহার করেছেন। আপেলটি প্রেম নিবেদনের একটি প্রাচীন সাহিত্যিক উপকরণ। লঙ্গুস এখানে ‘এপেতেতো’ ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করেছেন, যা একই সঙ্গে উড়ন্ত ও স্থির আবেগের স্ববিরোধিতা প্রকাশ করে। লঙ্গুস তার পাঠকের কাছে প্রত্যাশা করেন যে, তারা প্রেম ও কামনার দীর্ঘ সাহিত্যিক ইতিহাস ও রূপকের ইঙ্গিতগুলো বুঝতে পারবেন।

উপন্যাস পড়ার সময় পাঠক কখনো চরিত্রের জগতে থাকেন, আবার কখনো অর্থ উদ্ধারের জগতে প্রবেশ করেন। এই দ্বৈত দৃষ্টির অভিজ্ঞতাই পাঠক ও লেখার মধ্যে এক ধরনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। দান্তের ‘ইনফার্নো’র ফ্রানচেস্কার ভাষায়, বইটি ও তার লেখক পাঠককে প্রলুব্ধ করে। শেষ পর্যন্ত পৃষ্ঠা কেবল কাগজের ওপর কিছু চিহ্ন থাকে না, তা প্রেম করতে শুরু করে এবং সেই প্রেমের অর্থ পাঠক অনুভবের মধ্য দিয়ে বোঝেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

অ্যান কারসনের প্রবন্ধ: পৃষ্ঠারা যখন প্রেম করে

আপডেট সময় : ০৮:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী অ্যান কারসনের গদ্যের বই ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট: অ্যান এসে’ থেকে ‘মাই পেইজ মেইকস লাভ’ প্রবন্ধটি দৈনিক এদিন অনলাইন পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করেছে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে পাঠক পৃষ্ঠাদের প্রেমের গোপন কথা ও সাহিত্যের গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের ঔপন্যাসিক লঙ্গুস তার ‘ড্যাফনিস ও ক্লোয়ি’ উপন্যাসের ভূমিকায় এক ত্রিমুখী টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রেমদেবতা ইরোসের একটি ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে সেই সৌন্দর্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের উপন্যাসটি রচনা করেন। এখানে লঙ্গুসের উপন্যাসটি যেন শব্দের তৈরি আরেকটি ছবি, যা প্রথম ছবির সমকক্ষ হতে চায়। এই দুই ছবির মাঝখানে কাজ করে ‘পোথোস’—যা এক ধরনের আকুলতা বা আকাঙ্ক্ষা। রূপকের জন্মও এভাবেই হয়, যেখানে মন পরিচিত কিছুর সীমানা পেরিয়ে অনুপস্থিত কিছুর দিকে ধাবিত হয়।

মন্তেন লিখেছিলেন, ‘আমার পৃষ্ঠা প্রেম করে, আর প্রেমকে অনুভব দিয়ে বোঝে।’ লঙ্গুসের পৃষ্ঠা পাঠকের সঙ্গে প্রেম করে গল্পের চরিত্রদের আবেগের মধ্যে টেনে নিয়ে। তবে এটি কেবল উপরিতলের ঘটনা নয়; বরং দুটি ভিন্ন জগতকে রূপকের মাধ্যমে কাছাকাছি নিয়ে আসার গভীর প্রয়াস। ড্যাফনিস ও ক্লোয়ি উপন্যাসের কিশোর-কিশোরীরা প্রেম আবিষ্কার করে, এবং তাদের প্রতিটি কাজ প্রতীকের ইঙ্গিত বহন করে। উপন্যাসের শেষ দিকে ইরোসের গুহায় তাদের বিয়ে যেন প্রতীকী বিকাশেরই চূড়ান্ত রূপ।

ড্যাফনিস ও ক্লোয়ির মিলন মুহূর্তে লঙ্গুস আপেলের একটি প্রতীক ব্যবহার করেছেন। আপেলটি প্রেম নিবেদনের একটি প্রাচীন সাহিত্যিক উপকরণ। লঙ্গুস এখানে ‘এপেতেতো’ ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করেছেন, যা একই সঙ্গে উড়ন্ত ও স্থির আবেগের স্ববিরোধিতা প্রকাশ করে। লঙ্গুস তার পাঠকের কাছে প্রত্যাশা করেন যে, তারা প্রেম ও কামনার দীর্ঘ সাহিত্যিক ইতিহাস ও রূপকের ইঙ্গিতগুলো বুঝতে পারবেন।

উপন্যাস পড়ার সময় পাঠক কখনো চরিত্রের জগতে থাকেন, আবার কখনো অর্থ উদ্ধারের জগতে প্রবেশ করেন। এই দ্বৈত দৃষ্টির অভিজ্ঞতাই পাঠক ও লেখার মধ্যে এক ধরনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। দান্তের ‘ইনফার্নো’র ফ্রানচেস্কার ভাষায়, বইটি ও তার লেখক পাঠককে প্রলুব্ধ করে। শেষ পর্যন্ত পৃষ্ঠা কেবল কাগজের ওপর কিছু চিহ্ন থাকে না, তা প্রেম করতে শুরু করে এবং সেই প্রেমের অর্থ পাঠক অনুভবের মধ্য দিয়ে বোঝেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin