আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হাতাহাতি
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই বিশৃঙ্খলা দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারক পুনরায় এজলাসে ফিরে এসে আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে (রিমি) কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে। পরদিন আদালত আয়াসসহ দুজনের তিন দিনের এবং অপর দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন জামিন চেয়ে যুক্তি দেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়ার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। আইনজীবী আরও দাবি করেন, আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তারা দেশের শিল্পীদের পক্ষে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখেই কালি দিতে হবে এবং কেন হঠাৎ পাকিস্তান বা জিন্নাহর প্রসঙ্গ আসবে। তিনি অভিযোগ করেন, এর উদ্দেশ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা। তিনি আরও বলেন, ‘আজ সাত মাস তারা সরকারের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গালাগালি দিয়েছে। তারা এই জেনারেশনকে খারাপ করছে। তারা মনে করে, গালাগালি করলেই ভাইরাল হওয়া যাবে।’ এ সময় তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জামায়াতপন্থী হিসেবে উল্লেখ করলে পরিস্থিতির উত্তাপ বাড়ে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের একজন উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ জানালে মুহূর্তের মধ্যে বিচারকের সামনে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে হাতাহাতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ও মনির হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করলে বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক পুনরায় এজলাসে ফিরে আসেন এবং আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

























