সাতক্ষীরায় হাসপাতালে ঢুকে যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৫:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে মারধরের শিকার হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে রাতে সেখান থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল আলমের অভিযোগ, ওই অডিওগুলোতে শামীমের কণ্ঠে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য ছিল, যা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করে। শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না এবং কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এমনকি কয়েক দিন আগে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই থেকে আড়াই শ লোক হাসপাতালে চড়াও হয়। তারা পুলিশ, আনসার সদস্য ও চিকিৎসকদের বাধা উপেক্ষা করে হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে।
হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরেই শতাধিক ব্যক্তি অন্য রোগীদের সামনে শামীমকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়, তবে পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, ঘটনার সময়কার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে পড়ে থাকা শামীমকে ঘিরে অনেকে ভিড় করেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেবহাটা উপজেলা সদরে একদল মানুষকে মিছিল করে শামীমের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে এবং লোকজনকে হাসপাতাল অভিমুখে যাওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। ওসি শাহীন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























