ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রেনে যাত্রীবেশে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, চার বছরে ৩,১৬১টি মামলা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বর্তমানে এই পরিবহন ব্যবস্থায় বহুমুখী অপরাধের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীবেশে উঠে অপরাধীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী কোনো যাত্রী মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে অস্বীকার করলে ছিনতাইকারীরা তাদের চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, যার ফলে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করছেন কিংবা প্রাণ হারাচ্ছেন। অপরাধ সংঘটনের পর এসব অপরাধী নিকটতম স্টেশনে নেমে যায় অথবা চলন্ত ট্রেন থেকে দ্রুত লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।

ঢাকাসহ সারা দেশে গত চার বছর আট মাসে ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মোট ৩,১৬১টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা ৭০ শতাংশ হারে বেড়েছে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের গত আট মাসে ২৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় ডাকাতির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২,৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। তারা পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত জনবল চেয়ে আবেদন করেছে। জানা গেছে, কমলাপুর বা ঢাকার বাইরে যেসব এলাকা থেকে ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়, সেসব ট্রেনে সাধারণত ১০ জন করে পুলিশ সদস্য থাকেন। তারা চোরাই পণ্য জব্দ ও মাদক তল্লাশিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ট্রেনে তল্লাশি কমে যাওয়ায় অপরাধের মাত্রা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে গত ৮ মে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরগামী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওমর ফারুক শাওন, ৪ মে মালিবাগ এলাকায় ইব্রাহিম, ৮ জুন বনানী এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম এবং ২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় তোফায়েল ইসলাম ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে; ছিনতাইকারীরা তার টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা আমার দেশকে জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশের গার্ড ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

অপরাধী শনাক্তকরণে রেলওয়ে পুলিশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপন এবং অপরাধীদের ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম) সিস্টেম আপডেট করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জামিন পাওয়া অপরাধীদের বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পুলিশ বলছে, স্টেশনের পাশাপাশি ট্রেনেও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৪৩আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রেনে যাত্রীবেশে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, চার বছরে ৩,১৬১টি মামলা

আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বর্তমানে এই পরিবহন ব্যবস্থায় বহুমুখী অপরাধের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীবেশে উঠে অপরাধীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী কোনো যাত্রী মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে অস্বীকার করলে ছিনতাইকারীরা তাদের চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, যার ফলে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করছেন কিংবা প্রাণ হারাচ্ছেন। অপরাধ সংঘটনের পর এসব অপরাধী নিকটতম স্টেশনে নেমে যায় অথবা চলন্ত ট্রেন থেকে দ্রুত লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।

ঢাকাসহ সারা দেশে গত চার বছর আট মাসে ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মোট ৩,১৬১টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা ৭০ শতাংশ হারে বেড়েছে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের গত আট মাসে ২৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় ডাকাতির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২,৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। তারা পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত জনবল চেয়ে আবেদন করেছে। জানা গেছে, কমলাপুর বা ঢাকার বাইরে যেসব এলাকা থেকে ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়, সেসব ট্রেনে সাধারণত ১০ জন করে পুলিশ সদস্য থাকেন। তারা চোরাই পণ্য জব্দ ও মাদক তল্লাশিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ট্রেনে তল্লাশি কমে যাওয়ায় অপরাধের মাত্রা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে গত ৮ মে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরগামী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওমর ফারুক শাওন, ৪ মে মালিবাগ এলাকায় ইব্রাহিম, ৮ জুন বনানী এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম এবং ২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় তোফায়েল ইসলাম ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে; ছিনতাইকারীরা তার টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা আমার দেশকে জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশের গার্ড ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

অপরাধী শনাক্তকরণে রেলওয়ে পুলিশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপন এবং অপরাধীদের ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম) সিস্টেম আপডেট করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জামিন পাওয়া অপরাধীদের বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পুলিশ বলছে, স্টেশনের পাশাপাশি ট্রেনেও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৪৩আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh