আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের সিম জালিয়াতি, বাগেরহাটে গ্রেপ্তার ৯
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটের মোংলায় আঙুলের ছাপ ক্লোন করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়িক (এজেন্ট) সিম জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই ডিজিটাল প্রতারক চক্রের নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, ১১টি মোবাইল ফোন এবং ২০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, মোংলা উপজেলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সেলিম শেখের দুটি এবং আরেক এজেন্ট বিপ্লব মণ্ডলের একটি ব্যবসায়িক সিম এই ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়। গত ২৭ জুন ভোরে চক্রটি ক্লোন করা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ওই তিনটি সিমকার্ড রি-ইস্যু (পুনরায় উত্তোলন) করে নিজেদের দখলে নেয়। এরপর সিমগুলোতে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে sechsটি পৃথক বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে সরিয়ে ফেলে।
এ ঘটনায় গত ১ জুলাই মোংলা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে প্রথমে চক্রের দুই সদস্য ইয়াছিন সওদাগর ও শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় শামীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাটের যাত্রাপুর ও ফকিরহাট এলাকা থেকে আরও দুইজনকে এবং র্যাবের সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ইয়াছিন সওদাগর (২১), শামীম শেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) ও মো. মামুন গাজী (২১)। তারা বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা নয়টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিমকার্ডে একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া এসব ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের ডিজিটাল নমুনাও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তিনির্ভর নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























