ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যশোরে নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, নিখোঁজ ১ হাসান মাহমুদের রেকর্ড হ্যাটট্রিকে ১০৬ রানের লিড পেল বাংলাদেশ সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর নিরাপত্তা ও সুবিচারের দাবিতে মানববন্ধন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, স্থগিত পিটিআই সরকারের কার্যক্রম খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করল পাকিস্তান তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পেলেন সাহিদা আক্তার লালপুরে অবৈধ সার বিক্রির দায়ে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবিতে জাতীয় যুবশক্তির বিক্ষোভ ৯ মাসে সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৭ হাজারের বেশি কল

জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে কেন বারবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেস, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামে পরিচিত, দেশটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। বর্তমানে এখানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিকবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার, প্রস্তুতি কেন্দ্র এবং বিমান মোতায়েন এলাকা। তবে জর্ডান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ১৮টিই প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আল-আজরাক ঘাঁটি একটি অপরিহার্য সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র। এখান থেকে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করা সহজ হয়। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে জর্ডানের এই বিমানঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হওয়ায় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের কৌশলগত সুবিধা দেয়, যা মার্কিন সম্পদগুলোকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখে।

২০২১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার লাভ করে। তবে আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি অবশ্য আরও আগে থেকেই ছিল; ২০১৬ সালের স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান বারবার জর্ডানের এই ঘাঁটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগের কয়েকটি হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান, হ্যাঙ্গার ও কমান্ডকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের জুলাই মাসের এক হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথাও মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইরান এই ঘাঁটিটিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে কেন বারবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

আপডেট সময় : ১০:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেস, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামে পরিচিত, দেশটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। বর্তমানে এখানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিকবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার, প্রস্তুতি কেন্দ্র এবং বিমান মোতায়েন এলাকা। তবে জর্ডান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ১৮টিই প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আল-আজরাক ঘাঁটি একটি অপরিহার্য সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র। এখান থেকে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করা সহজ হয়। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে জর্ডানের এই বিমানঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হওয়ায় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের কৌশলগত সুবিধা দেয়, যা মার্কিন সম্পদগুলোকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখে।

২০২১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার লাভ করে। তবে আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি অবশ্য আরও আগে থেকেই ছিল; ২০১৬ সালের স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান বারবার জর্ডানের এই ঘাঁটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগের কয়েকটি হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান, হ্যাঙ্গার ও কমান্ডকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের জুলাই মাসের এক হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথাও মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইরান এই ঘাঁটিটিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh