ঘুষের বিনিময়ে নিষিদ্ধ ল্যাপটপ খালাস, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা কাস্টম হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে আমদানি নিষিদ্ধ পুরোনো ল্যাপটপ খালাস, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাস এবং বন্ডেড সুবিধায় আনা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আটজন আমদানিকারক এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মিথ্যা ঘোষণায় পুরোনো ল্যাপটপ ও এলসিডি দ্রুত খালাসের ক্ষেত্রে তাজিয়া এন্টারপ্রাইজের জীবন চৌধুরী, সিনথিয়া এন্টারপ্রাইজের মো. শাজাহান এবং আরিফা লজিস্টিক লিমিটেডের রুবেল আমদানিকারকদের প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া আনান ইন্টারন্যাশনালের শামীম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা কাস্টম হাউসে প্রভাবশালী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্যান্য এজেন্টদের মধ্যে ফাহিম ফাইভ স্টারের উজ্জ্বল, মনোয়ারার সাইদুল, লাবিবা এন্টারপ্রাইজের লিটন, থ্রি আরের গোলাম রাব্বি, ডে লাইটের তাজুল ইসলাম এবং মমতা এন্টারপ্রাইজের মমতাজ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অনেকেই সাড়া দেননি। জীবন চৌধুরী পরে কথা বলবেন বলে জানালেও পরবর্তীতে আর বক্তব্য দেননি। মো. শাজাহান, রুবেল, শামীম ও উজ্জ্বলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে লাবিবা এন্টারপ্রাইজের লিটন দাবি করেছেন যে তিনি কোনো পুরোনো ল্যাপটপ আমদানি করেন না। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে আসা চিঠির প্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা কাস্টম হাউসকেও বিষয়টি আমলে নিতে বলা হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান জানিয়েছেন, তারা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করেন। যেসব এয়ারওয়ে বিলে পুরোনো ল্যাপটপ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোতে লক দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। এদিকে, বন্ডেড সুবিধায় আনা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে আটটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকিসহ গুরুতর অনিয়মের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- তুয়ানি প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, তাম্মি এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, রেডিয়ান্ট এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, হোলি ইলাস্টিক লিমিটেড, তাকওয়া ট্রেড ইন্ডাস্ট্রিজ, মিরহা এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওমর গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ও ডংহ বিডি লিমিটেড।
ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহা. মসিউর রহমান জানান, পুরোনো ল্যাপটপ আমদানির বিষয়ে এনবিআরের চিঠি পাওয়ার পর অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এনবিআরের শুল্ক নীতি ও আইসিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



























