ইউক্রেন যুদ্ধ তীব্র করার ঘোষণা পুতিনের, ইরানকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি
- আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে এই অনড় অবস্থানের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে তেহরানকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে। মস্কো তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
পুতিন আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই বিশেষ দূত ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম। এর আগে সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তবে পুতিন জানান বর্তমানে দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের সরাসরি আলোচনা কিছুটা স্থগিত রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে পুতিন বলেন, আগস্ট মাসে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সংগঠন ‘ডিপ স্টেটের’ তথ্যমতে, এই পরিমাণ মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার। পুতিনের দাবি, গত ৪০ দিনে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া রাশিয়ায় নতুন করে সেনা নিয়োগের আশঙ্কাকে তিনি ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পশ্চিমাদের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ‘সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে সাম্রাজ্যবাদের হাঙর হিসেবে বর্ণনা করা হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে। এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা করতে প্রস্তুত।’



























