সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাই: গ্রেপ্তার ২, মোটরসাইকেলের রং নিয়ে ধোঁয়াশা
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে অটোরিকশা থেকে পড়ে বগুড়ার প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেলের রঙের সঙ্গে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রঙের অমিল থাকায় এবং গ্রেপ্তার মূল আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ও তাঁর সহযোগী সেড্রিক। তাঁদের কাছ থেকে ‘ইয়ামাহা আর-১৫’ মডেলের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেল চারটায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নয়মুল হাসান।
ব্রিফিং শেষে গ্রেপ্তার দুজনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন চিৎকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর মোটরসাইকেলের রং সাদা-কালো, কিন্তু ছিনতাইয়ের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে যে মোটরসাইকেলটি দেখা গেছে, সেটির রং ছিল নীল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজেও নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে ঘুরতে দেখা গেছে। অথচ র্যাবের জব্দ করা মোটরসাইকেলটি সাদা-কালো রঙের।
এ বিষয়ে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান ব্রিফিংয়ে তিন যুক্তি তুলে ধরেন। প্রথমত, জব্দ করা মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিব নামের এক তরুণ, যিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পনি গাজী তাঁর এলাকার বড় ভাই এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায়ই তাঁর বাইকটি নিয়ে যেতেন। গত ২৬ আগস্ট থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বাইকটি পনি গাজীর কাছেই ছিল। দ্বিতীয়ত, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া চালকের দৈহিক গঠনের সঙ্গে পনির দৈহিক গঠনের মিল রয়েছে এবং স্থানীয় ১৫ জন সোর্সও ভিডিও দেখে পনির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া নিহতের স্বামী আবদুল মতিনও জানিয়েছেন যে এ ধরনের মোটরসাইকেলই ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, ঘটনার দিন রাত আড়াইটা থেকে চারটা পর্যন্ত আসামিদের মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই এলাকাতেই ছিল।
র্যাব জানায়, মূল সন্দেহভাজন পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও চুরির অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির হাতিরঝিল, আদাবর ও কাফরুল থানায় মাদকের তিনটি; ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডা ও শাহজাহানপুর থানায় চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ছয়টি; আদাবর, খিলগাঁও ও কামরাঙ্গীরচর থানায় চুরি ও সিঁধেল চুরির তিনটি এবং চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। পনি গাজী এর আগে গ্রেপ্তার হলেও কবে জামিনে বের হয়েছেন, তা যাচাই করছে পুলিশ। অন্য আসামি সেড্রিকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের মালিক নিশ্চিত করেছেন যে পনির পেছনে সেড্রিকই বসা ছিলেন।
মোটরসাইকেলের রঙের অমিল ও আসামির দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, যেহেতু মামলায় আসামিরা অজ্ঞাতনামা, তাই তাঁদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। দুজনকে থানায় হস্তান্তর করে আদালতের অনুমতি নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
























