পরিবর্তনহীন পুলিশ: এখনো ঘুস ও বদলি বাণিজ্যের পুরোনো বৃত্তেই
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশকে ঢেলে সাজানো এবং নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলেও বাহিনীর কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। এখনো ঘুস ও বদলি বাণিজ্যের মতো পুরোনো অভিযোগগুলো বহাল রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, পুলিশের আচরণে নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে এবং মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা গুমের মতো ঘটনা থেকে তারা সরে এসেছে। তবে অপরাধ বিশ্লেষক ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাহিনীটি এখনো পুরোনো ধাঁচেই চলছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক জানান, রাজনীতিকরণের জায়গা থেকে পুলিশ ন্যূনতম বদলায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পুলিশ এখনো ১৮৬১ সালের পুরোনো আইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবর্তনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও পেশাদার কাঠামো। তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও পুলিশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও মানসিকতায় পরিবর্তন আসেনি।
সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়ন ছিল ওপেনসিক্রেট। বর্তমানেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে একই ধারা বজায় রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক এসপি জানিয়েছেন, এখনো দক্ষ কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহম্মেদ জানান, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় অনুগত ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতো না, আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের বেশ কিছু আর্থিক দুর্নীতির অডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। খুলনার শিরোমণি এলাকায় গত ৬ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে একটি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৭-৮ জন মুখোশধারী ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে এক বাড়িতে প্রবেশ করে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসির ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ মন্তব্য এবং রাজশাহীর এসআই মহিউদ্দিনের ঘুস লেনদেনের অডিও ক্লিপ জনমনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখনো থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। গত বছরের ১৮ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মগবাজার গ্রিনওয়ে গলিতে তিন ছিনতাইকারী চাপাতি হাতে প্রকাশ্যে ছিনতাই করে। ভুক্তভোগী মো. আবদুল্লাহ জানান, ছিনতাইকারীর হামলায় আহত অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে হাতিরঝিল থানায় গিয়ে ক্ষতচিহ্ন দেখালেও মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়। এছাড়া পল্লবীর গৃহিণী মোছা. হোসনে আরা জানান, প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও তিনি কোনো বিচার পাননি। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ নিজে নিজে পরিবর্তিত হবে না; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে নীতিগত ও আইনি সংস্কারই একমাত্র পথ।



























