ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল সরকার সার চাইতে গিয়ে ৮ দিন জেল খাটলেন কুড়িগ্রামের দুই কৃষক ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই কর্মচারী আটক সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে আসছে ‘দ্য ব্যাটম্যান পার্ট টু’ কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে স্কুল পোশাকের অনুদান বৃদ্ধি, সুবিধা পাবে আরও বেশি পরিবার

৪র্থ পর্ব: ধর্ষণের বিচার কেন দীর্ঘ হয়? বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি অপরাধ বাড়াচ্ছে?

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




আগের পর্বে আমরা দেখেছি, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সংকট কীভাবে অপরাধ বাড়াচ্ছে। এবার প্রশ্ন—অপরাধীরা কেন আইনের ভয় পায় না?

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা যতটা উদ্বেগের, তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো বিচারহীনতা। অনেক মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। কোনো কোনো ঘটনায় চার্জশিট দাখিল হতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। অনেকেই মাঝপথে মামলা চালানোর সাহস হারিয়ে ফেলেন।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—কিছু অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা প্রভাব ব্যবহার করে আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। এতে সমাজে একটি বার্তা যায়—ক্ষমতা থাকলে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব।

বিচার দেরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট:

  • দীর্ঘসূত্রতা
  • দুর্বল তদন্ত
  • সাক্ষীর নিরাপত্তাহীনতা
  • সামাজিক চাপ
  • রাজনৈতিক প্রভাব
  • ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে। তখন সমাজে প্রতিশোধ ও অস্থিরতা বাড়বে।
রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে—ধর্ষণের বিচার শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়; এটি পুরো সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া যে, “অপরাধ করলে ছাড় নেই।”

আজ প্রয়োজন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আরও কার্যকর করা, সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করা।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণ বন্ধে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের করণীয় কী?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত প্রকাশিত তথ্য
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
৩. মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন
৪. বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

৪র্থ পর্ব: ধর্ষণের বিচার কেন দীর্ঘ হয়? বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি অপরাধ বাড়াচ্ছে?

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আগের পর্বে আমরা দেখেছি, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সংকট কীভাবে অপরাধ বাড়াচ্ছে। এবার প্রশ্ন—অপরাধীরা কেন আইনের ভয় পায় না?

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা যতটা উদ্বেগের, তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো বিচারহীনতা। অনেক মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। কোনো কোনো ঘটনায় চার্জশিট দাখিল হতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। অনেকেই মাঝপথে মামলা চালানোর সাহস হারিয়ে ফেলেন।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—কিছু অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা প্রভাব ব্যবহার করে আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। এতে সমাজে একটি বার্তা যায়—ক্ষমতা থাকলে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব।

বিচার দেরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট:

  • দীর্ঘসূত্রতা
  • দুর্বল তদন্ত
  • সাক্ষীর নিরাপত্তাহীনতা
  • সামাজিক চাপ
  • রাজনৈতিক প্রভাব
  • ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে। তখন সমাজে প্রতিশোধ ও অস্থিরতা বাড়বে।
রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে—ধর্ষণের বিচার শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়; এটি পুরো সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া যে, “অপরাধ করলে ছাড় নেই।”

আজ প্রয়োজন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আরও কার্যকর করা, সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করা।

চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণ বন্ধে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের করণীয় কী?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত প্রকাশিত তথ্য
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
৩. মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন
৪. বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম