প্রবাসীকে খুন করার পর ৮ টুকরো করে, মূল অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিকা গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
রাজধানী ঢাকা মুগদা থানাধীন এলাকায় আলোচিত সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২০ মে বুধবার সকালে মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম “সিটিটিসি” ইউনিটের যৌথ অভিযানে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানান, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেন মোকাররম মিয়া (৩৮) তার বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, মোকাররম মিয়া নিজ গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা ১ম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগম এর ভাড়া বাসায় উঠেন।
১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে ৭টি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাত বিহীন খণ্ডিত, অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করে, পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায় যে, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তাসলিমা।
গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত দিতে বলে এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়, এতে ২ জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ানো হয়, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা ও তার বোন হেলেনা ও ভাগানি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
হত্যার পর মোকাররম লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়, পরে শরীলের খণ্ডিত অংশ গুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার ৪ বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৮ মে র্যাব এ মামলার ১ নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেফতার করেন, পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


























