ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বুড়িগঙ্গা নদীতে গলা কাটা লাশ উদ্ধার শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা, মরদেহ টুকরো করে ড্রামে সংরক্ষণের অভিযোগে স্ত্রী আটক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানাজা শেষে জয় বাংলা স্লোগান, আওয়ালীগের ১৯ কর্মী গ্রেফতার তেজগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৯ জন গ্রেফতার পার্বতীপুরে আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন সড়ক ও ড্রেনেজ কাজের উদ্বোধন পরশুরাম থানার অভিযানে ইয়াবা সহ ১ যুবক গ্রেফতার পীরগাছায় হাতপাখা তৈরি করে দারিদ্র্যকে জয় তাজহাটে ডিবির অভিযানে গাঁজা সেবনকারী ২ জন গ্রেফতার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ২৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি সাংবাদিক রফিকের পিতা হত্যা মামলার আসামিরা, পরিবারের ক্ষোভ

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা, মরদেহ টুকরো করে ড্রামে সংরক্ষণের অভিযোগে স্ত্রী আটক

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

শরীয়তপুর জেলা সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখার অভিযোগ উঠেছে ১ নারীর বিরুদ্ধে, পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে ধরা পড়েন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া-প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার, প্রায় ৮ বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়, পরে তারা বিয়ে করেন, এটি ২ জনেরই ২য় বিয়ে ছিল।

আরো জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল, সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক-বিতণ্ডার ১ পর্যায়ে আসমা আক্তার হাতে লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর মরদেহ ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন আসমা আক্তার, পরে সেগুলো ১টি ড্রামে ভরে বাসায় প্রায় ৩ দিন রেখে দেন। ১৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় ১টি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কয়েকটি অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

পুলিশ জানান, দেহের মাংসের অংশ গুলো শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়, এ সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়, এর আগে বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও জিয়ার ৪টি হাত-পা উদ্ধার করেন পুলিশ।

নিহত জিয়ার আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকা কালে ওই নারীকে বিয়ে করেন, দেশে এসে তারা আলাদা বাসায় থাকতেন, খবর পেয়ে এসে দেখি, তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন, ঘটনার দিন ঝগড়ার সময় রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া মাটিতে পড়ে যান, পরে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে যাবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে জানান।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখা হয়েছিল, পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে, তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা, মরদেহ টুকরো করে ড্রামে সংরক্ষণের অভিযোগে স্ত্রী আটক

আপডেট সময় : ১১:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

শরীয়তপুর জেলা সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখার অভিযোগ উঠেছে ১ নারীর বিরুদ্ধে, পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে ধরা পড়েন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া-প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার, প্রায় ৮ বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়, পরে তারা বিয়ে করেন, এটি ২ জনেরই ২য় বিয়ে ছিল।

আরো জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল, সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক-বিতণ্ডার ১ পর্যায়ে আসমা আক্তার হাতে লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর মরদেহ ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন আসমা আক্তার, পরে সেগুলো ১টি ড্রামে ভরে বাসায় প্রায় ৩ দিন রেখে দেন। ১৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় ১টি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কয়েকটি অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

পুলিশ জানান, দেহের মাংসের অংশ গুলো শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়, এ সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়, এর আগে বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও জিয়ার ৪টি হাত-পা উদ্ধার করেন পুলিশ।

নিহত জিয়ার আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকা কালে ওই নারীকে বিয়ে করেন, দেশে এসে তারা আলাদা বাসায় থাকতেন, খবর পেয়ে এসে দেখি, তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন, ঘটনার দিন ঝগড়ার সময় রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া মাটিতে পড়ে যান, পরে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে যাবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে জানান।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখা হয়েছিল, পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে, তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।