ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষার আগের দিনও প্রবেশপত্র পায়নি ২৯ পরীক্ষার্থী প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ রূপগঞ্জে জমি বিরোধে বিধবার দোকানে ভাঙচুর, ৭টিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে তেলের সংকট ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না জ্বালানি পরশুরামে স্কুল শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মৃত্যু নওগাঁয় খাবারের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আহত ৪, লুট ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহনের ভাড়া সুনামগঞ্জের বিদ্যুতের মেরামত করতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু নেত্রকোনায় স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

গণছুটিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুতের ৫৬৯ কর্মী, গ্রাহকের ভোগান্তি

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৮৫৫ বার পড়া হয়েছে

গণছুটিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুতের ৫৬৯ কর্মী, গ্রাহকের ভোগান্তি

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:

চার দফা দাবিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে গেছেন। এতে জেলার ছয় উপজেলায় জরুরি সেবা, লাইন মেরামত, মিটার সংযোগ, বিলিংসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। ঘটেছে সড়ক অবরোধের ঘটনা এবং ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ভিড় করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও সাব-স্টেশনে কর্মরত ৫৭৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৫৬৯ গণছুটিতে গেছেন। তার মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ১১৭ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা জোনাল অফিসে ৮৫ জনের মধ্যে ৭০ জন, দাগনভূঞা উপজেলা জোনাল অফিসে ৭৪ জনের মধ্যে ৬৭ জন, পরশুরাম উপজেলায় ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ৪৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন ও সোনাগাজীতে ৭৫ জনের মধ্যে ৬৮ জন গণছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে ফুলগাজীতে দুই দিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের বাসিন্দা ইয়াকুব হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, রোববার থেকেই বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অভিযোগ জানাতে গেলে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। কবে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা কিছুই বুঝতে পারছি না।

দাগনভূঞা পৌর শহরের আলাইয়ারপুর এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন মিটারের আবেদন জমা দিতে আসলেও কাউকে পাইনি। কবে কাজ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে চললে আমাদের সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়বে।

পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রামের মোঃ নাহিদ বলেন, রোববার দিবা গত রাত ৪টা থেকে সারাদিন কোন বিদ্যুৎ নেই, এদিন রাত ৯টার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি মোঃ রফিক বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, বর্তমানে লম্বা সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি, বারবার আশ্বাস পেলেও কার্যকর হয়নি কিছুই, দাবি আদায় না হলে আমরা কেউ কাজে ফিরব না। তবে জনভোগান্তি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

ফেনী সদর উপজেলার কসকা জোনাল অফিসের এজিএম কামরুল হাসান বলেন, এ অফিসে ৪০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩৫ জন ছুটির আবেদন ফরম দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। বাকি ৫ জন কর্মচারী দিয়ে ৩২ হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সদর উপজেলা লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর ও মিরগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কথা জানালেও জনবল না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ নুরুল হোসাইন বলেন, জেলার ছয় উপজেলার জোনাল অফিস সহ বিভিন্ন সাব-স্টেশন অফিসে কর্মরত ৫৭৯ জনের মধ্যে ৫৬৯ আবেদন ফরম জমা দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলেও মেরামত কাজে বিলম্ব হচ্ছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

কর্মরতদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১. অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তদের পুনর্বহাল, ২. অব্যবস্থাপনার অবসান, ৩. বদলির নামে হয়রানি বন্ধ, ৪. দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

গণছুটিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুতের ৫৬৯ কর্মী, গ্রাহকের ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
print news

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:

চার দফা দাবিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে গেছেন। এতে জেলার ছয় উপজেলায় জরুরি সেবা, লাইন মেরামত, মিটার সংযোগ, বিলিংসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। ঘটেছে সড়ক অবরোধের ঘটনা এবং ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ভিড় করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও সাব-স্টেশনে কর্মরত ৫৭৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৫৬৯ গণছুটিতে গেছেন। তার মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ১১৭ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা জোনাল অফিসে ৮৫ জনের মধ্যে ৭০ জন, দাগনভূঞা উপজেলা জোনাল অফিসে ৭৪ জনের মধ্যে ৬৭ জন, পরশুরাম উপজেলায় ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ৪৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন ও সোনাগাজীতে ৭৫ জনের মধ্যে ৬৮ জন গণছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে ফুলগাজীতে দুই দিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের বাসিন্দা ইয়াকুব হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, রোববার থেকেই বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অভিযোগ জানাতে গেলে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। কবে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা কিছুই বুঝতে পারছি না।

দাগনভূঞা পৌর শহরের আলাইয়ারপুর এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন মিটারের আবেদন জমা দিতে আসলেও কাউকে পাইনি। কবে কাজ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে চললে আমাদের সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়বে।

পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রামের মোঃ নাহিদ বলেন, রোববার দিবা গত রাত ৪টা থেকে সারাদিন কোন বিদ্যুৎ নেই, এদিন রাত ৯টার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি মোঃ রফিক বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, বর্তমানে লম্বা সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি, বারবার আশ্বাস পেলেও কার্যকর হয়নি কিছুই, দাবি আদায় না হলে আমরা কেউ কাজে ফিরব না। তবে জনভোগান্তি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

ফেনী সদর উপজেলার কসকা জোনাল অফিসের এজিএম কামরুল হাসান বলেন, এ অফিসে ৪০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩৫ জন ছুটির আবেদন ফরম দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। বাকি ৫ জন কর্মচারী দিয়ে ৩২ হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সদর উপজেলা লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর ও মিরগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কথা জানালেও জনবল না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ নুরুল হোসাইন বলেন, জেলার ছয় উপজেলার জোনাল অফিস সহ বিভিন্ন সাব-স্টেশন অফিসে কর্মরত ৫৭৯ জনের মধ্যে ৫৬৯ আবেদন ফরম জমা দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলেও মেরামত কাজে বিলম্ব হচ্ছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

কর্মরতদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১. অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তদের পুনর্বহাল, ২. অব্যবস্থাপনার অবসান, ৩. বদলির নামে হয়রানি বন্ধ, ৪. দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।