ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী রেনশ’র দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৯০ রানে অস্ট্রেলিয়া ‘জনতার আদালতে বাবু হত্যার বিচার হবে’: বড়াইগ্রামে হুইপ দুলু বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা জার্মান পর্যটককে ম্যাকবুক উপহার দিলেন ঢাকার ব্যবসায়ী

মনোহরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ২২৫ বার পড়া হয়েছে

মনোহরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ

নরসিংদীর মনোহরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার(১৫ জুলাই) উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীর আহমদপুর নামাপাড়া গ্রামে ঘটে গেল এক বেদনার্ত ঘটনা। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে মাইনুদ্দিনের ভাগ্নি ফাতেমা (২৬) নিজ নানা বাড়ির একটি ঘরের ভেতর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ফাতেমা দুই সন্তানের জননী ছিলেন—এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছোট অবুঝ সন্তান দুটি এখনও বুঝতে পর্যন্ত পারছে না, তাদের মা আর এই দুনিয়াতে নাই। ফাতেমার পিতার নাম নবী হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি লেবুতলা ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামে। ফাতেমার বিয়ে হয়েছিল মনোহরদী উপজেলার চালাকচর গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, মানসিকভাবে অসুস্থতার কারণে ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। প্রায় ৭ বছর আগেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। জানা যায়, মানসিক সমস্যার কারণে কখনো কখনো তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো, আবার কখনো বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেন। তার এই মানসিক যন্ত্রণা চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় আজ। নানু বাড়িতে থাকা কালে সকালে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজন তার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, ফাতেমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। সবচেয়ে বেদনার বিষয়, ফাতেমা গর্ভবতীও ছিলেন। তার এভাবে চলে যাওয়া যেন একসাথে তিনটি প্রাণের অবসান। স্থানীয়দের ভাষায়, এমন করুণ ঘটনা মনোহরদী উপজেলায় যেন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা—প্রতিদিনই কোনো না কোনো শোক সংবাদ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা ব্যবস্থার প্রতি এখনই আরও বেশি দৃষ্টি না দিলে, এমন মর্মান্তিক খবর হয়তো বাড়তেই থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মনোহরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

মো.এমরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি,নরসিংদীঃ

নরসিংদীর মনোহরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার(১৫ জুলাই) উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীর আহমদপুর নামাপাড়া গ্রামে ঘটে গেল এক বেদনার্ত ঘটনা। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে মাইনুদ্দিনের ভাগ্নি ফাতেমা (২৬) নিজ নানা বাড়ির একটি ঘরের ভেতর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ফাতেমা দুই সন্তানের জননী ছিলেন—এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছোট অবুঝ সন্তান দুটি এখনও বুঝতে পর্যন্ত পারছে না, তাদের মা আর এই দুনিয়াতে নাই। ফাতেমার পিতার নাম নবী হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি লেবুতলা ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামে। ফাতেমার বিয়ে হয়েছিল মনোহরদী উপজেলার চালাকচর গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, মানসিকভাবে অসুস্থতার কারণে ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। প্রায় ৭ বছর আগেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। জানা যায়, মানসিক সমস্যার কারণে কখনো কখনো তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো, আবার কখনো বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেন। তার এই মানসিক যন্ত্রণা চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় আজ। নানু বাড়িতে থাকা কালে সকালে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজন তার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, ফাতেমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। সবচেয়ে বেদনার বিষয়, ফাতেমা গর্ভবতীও ছিলেন। তার এভাবে চলে যাওয়া যেন একসাথে তিনটি প্রাণের অবসান। স্থানীয়দের ভাষায়, এমন করুণ ঘটনা মনোহরদী উপজেলায় যেন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা—প্রতিদিনই কোনো না কোনো শোক সংবাদ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা ব্যবস্থার প্রতি এখনই আরও বেশি দৃষ্টি না দিলে, এমন মর্মান্তিক খবর হয়তো বাড়তেই থাকবে।