ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাটে ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কুমিল্লায় স্কুল ছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় বিদেশি পিস্তল ও গুলি সহ গ্রেফতার-৪ ফতুল্লা উত্তর দেলপাড়ায় স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীকে নির্মম হত্যা ঘাতক স্ত্রী গ্রেফতার অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি সংসদে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে ব্যাংকের ১৭ লক্ষ টাকা চুরির রহস্য উদ্ঘাটন নিরাপত্তা প্রহরী রংপুর থেকে গ্রেফতার কক্সবাজার ইয়াবা সহ আটক ১ ভোলায় ফুটপাতের পাগলী মা হলেও বাবা হলোনা কেউ নবীনগরে গাঁজা সহ আটক-১ দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ ৩ জনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

হীমেল কুমার মিত্র রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ ৩ জনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সালিশী বৈঠকে ২ নারীকে নষ্টা ও দুঃচরিত্রা মহিলা আখ্যায়িত করে হাঁত পা বেঁধে মধ্য যুগদীয় কায়দায় নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানি করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ ৩ জনকে দীর্ঘ ১১ বছর পর
১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আরও ৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫ আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

আজ (১ ফেব্রুয়ারি) বুধবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২-এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৫ জুন বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের ২ হতদরিদ্র নারী হ্যাপি আখতার ও শাহিদা বেগমকে চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা তাদের বাড়ি থেকে তুলে এনে মারপিট করে রাজারামপুর কাশিপুর লিচু বাগান এলাকায় ১টি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে সালিশের নামে ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকের উপস্থিতিতে ২ নারীর হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও তাদের উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আয়নাল হকসহ ৫৬ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

মামলার বিচার চলাকালীন ২ আসামি মৃত্যুবরণ করেন। পরে মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিচারক আসামি আয়নাল চেয়ারম্যান, মহুবুল ও চিকনা এনামুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অপর ৬ আসামি ইলিয়াছ, বাবলু, সেকেন্দার মন্ডল, রউফ মন্ডল, মোটা এনামুল ও মজম আলীকে ২ থেকে ৩ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালতের রায় ঘোষণার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম তুহিন জানান, মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের সাজা দেয়া হয়েছে। এ রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে নির্যাতিতা ২ নারী হ্যাপি আখতার ও শাহিদা বেগম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ ৩ জনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
print news

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সালিশী বৈঠকে ২ নারীকে নষ্টা ও দুঃচরিত্রা মহিলা আখ্যায়িত করে হাঁত পা বেঁধে মধ্য যুগদীয় কায়দায় নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানি করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকসহ ৩ জনকে দীর্ঘ ১১ বছর পর
১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আরও ৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫ আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

আজ (১ ফেব্রুয়ারি) বুধবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২-এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৫ জুন বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের ২ হতদরিদ্র নারী হ্যাপি আখতার ও শাহিদা বেগমকে চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা তাদের বাড়ি থেকে তুলে এনে মারপিট করে রাজারামপুর কাশিপুর লিচু বাগান এলাকায় ১টি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে সালিশের নামে ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকের উপস্থিতিতে ২ নারীর হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও তাদের উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আয়নাল হকসহ ৫৬ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

মামলার বিচার চলাকালীন ২ আসামি মৃত্যুবরণ করেন। পরে মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিচারক আসামি আয়নাল চেয়ারম্যান, মহুবুল ও চিকনা এনামুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অপর ৬ আসামি ইলিয়াছ, বাবলু, সেকেন্দার মন্ডল, রউফ মন্ডল, মোটা এনামুল ও মজম আলীকে ২ থেকে ৩ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালতের রায় ঘোষণার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম তুহিন জানান, মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের সাজা দেয়া হয়েছে। এ রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে নির্যাতিতা ২ নারী হ্যাপি আখতার ও শাহিদা বেগম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।