Header Premium (728×90)

Categories: রাজনীতি

রক্তপাতহীন রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ মনোভাব ও ৫ আগস্ট-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। তাঁর মতে, সরকার যখন জনগণকে প্রতিহত করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতাদের বহুবার বলেছিলেন যে সেনানিবাস জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ না করা পর্যন্ত বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর জনগণ তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নেয়নি, যা সৈনিকদেরও প্রভাবিত করে।

ফজলে এলাহী আকবর জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে দরবার ডাকেন, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অধীনস্থ কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মানসিক অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায় যে জনগণের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো গ্রহণযোগ্য হবে না। ৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁকে ফোন করে পরদিন সকাল ১০টায় দেখা করতে বলেন। ৫ আগস্ট বৈঠকে সেনাপ্রধান তিনটি বিষয় স্পষ্ট করেন: তিনি আর রক্তপাত চান না, নিজে ক্ষমতা নিতে চান না এবং চলমান সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধান চান।

সেনাপ্রধানের বার্তা নিয়ে ফজলে এলাহী আকবর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না ও জোনায়েদ সাকিসহ প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলা দেড়টার দিকে সেনা সদর থেকে তাঁদের দ্রুত উপস্থিত হতে বলা হয়। ওইদিন সেনা সদরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে সেনাপ্রধান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন এবং তিনি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চান। এরপর তিন বাহিনীর প্রধান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

বঙ্গভবনের বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ফজলে এলাহী আকবর জানান, সেখানে তিনি পুলিশ সংস্কার, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থেকে বন্দীদের মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মনোভাব আগের সরকারের বিপক্ষে ছিল বলে আমার কাছে তথ্য ছিল এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ কিছু মহল সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি নিজে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন যেন সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহাত্মক পরিস্থিতি তৈরি না হয়। পরিশেষে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…

19 minutes ago

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও…

23 minutes ago

জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে…

33 minutes ago

না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন ৮০ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

38 minutes ago

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট। ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’…

45 minutes ago

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের…

1 hour ago

This website uses cookies.