Header Premium (728×90)

Categories: রাজনীতি

প্রশাসনে আর থাকছে না ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেউই: কঠোর অবস্থানে সরকার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশাসনে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে আর বহাল রাখছে না। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকার শুরুর দিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার স্বার্থে অনেক বিষয় কৌশলে এড়িয়ে চললেও, ক্ষমতার মেয়াদের পাঁচ মাস পার হওয়ার পর এখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিশেষ করে যারা সরকারের আস্থাভাজন নয় বা যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে পদায়ন করা হচ্ছে না।

প্রশাসনের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো থেকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং যাদের সঙ্গে এখনো গোপন যোগাযোগ থাকার সন্দেহ রয়েছে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবে সরকার এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নানা অভিযোগে ৬৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা, ১৩ জন সচিব, ২২ জন জেলা প্রশাসক ও চুক্তিভিত্তিক ১০১ জনকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টিও এই ঝুঁকির পর্যালোচনার অংশ। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় নয়, বরং পূর্ববর্তী সরকারের দোসররা এখনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই প্রশাসনে সংস্কার ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অপসারণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও ধীরস্থির কৌশল অবলম্বন করছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতির মতো শীর্ষ সাংবিধানিক পদে নির্বাচনে অতীতে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না, তাই এবার কোনো প্রকার ঝুঁকি নেওয়া হবে না।

সরকারের এই নজরদারি শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভূরাজনৈতিক তৎপরতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়ে কর্মীদের বার্তা দেওয়ার ঘটনাকে সরকার নিছক রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসাবে দেখছে না। সামনে ৫ আগস্ট তথা জুলাই অভ্যুত্থানের দিনক্ষণ রয়েছে। এছাড়া ১৫ আগস্ট রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার, যা ঘিরে সরকার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, প্রতিশোধের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না, তবে রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় এমন কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুরোনো রেজিমের অবশিষ্টাংশ ক্ষমতায় থাকা বাস্তবসম্মত নয়, তাই নতুন সরকারের নিজস্ব ও আস্থাভাজন লোক নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

Recent Posts

মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়…

13 seconds ago

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…

38 minutes ago

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

1 hour ago

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

2 hours ago

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…

2 hours ago

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…

2 hours ago

This website uses cookies.