দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন। সম্প্রতি কোম্পানিটির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে বেক্সিমকো ফার্মা জানিয়েছে, পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন সালমান এফ রহমান। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন পর্ষদে বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের মনোনীত একজন পরিচালক এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকেও নীতিগত সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনা করেই সালমান এফ রহমান পর্ষদ ছাড়তে রাজি হয়েছেন। তাঁর কারণে যেন কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ বিঘ্নিত না হয়, মূলত সেই লক্ষ্যেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেক্সিমকো ফার্মার বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
দেশের শেয়ারবাজারের পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেティブ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও তালিকাভুক্ত। তাই পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে লন্ডনের শেয়ারবাজারের নিয়মকানুনও মেনে চলতে হবে। বিএসইসি প্রথমে পর্ষদে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের একজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দিলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাতে রাজি হননি। ফলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগের আগে তাঁর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সালমান এফ রহমানের পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত কোম্পানির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেতে পারে। ১৯৮৬ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বেক্সিমকো ফার্মার ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তাদের হাতে, যার মধ্যে সালমান এফ রহমানও একজন। বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা।
নতুন মৌসুমের শুরুতেই ইউরোপীয় ফুটবলে গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও ফেরমিন…
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক…
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে পরাজিত…
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং…
This website uses cookies.