বৃটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এভিয়াশন অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ৩২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার একই সমস্যার কারণে ১ হাজার ৭৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল, যার ফলে কয়েক হাজার মানুষের ভ্রমণ পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে যায়।
এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর বৃটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা প্রদানকারী সংস্থা 'ন্যাটস' (NATS) দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে। বুধবার বিকেলে সংস্থাটি জানায়, তাদের কার্যক্রম বর্তমানে ‘স্থিতিশীল’ অবস্থায় রয়েছে। তবে গত তিন বছরের মধ্যে এটি ন্যাটসের তৃতীয় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি। ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বৃটিশ সরকার জানিয়েছে, ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই বিমান চলাচল বিপর্যয়কে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ন্যাটসের নেতৃত্ব দেওয়া মার্টিন রোলফ বুধবার সকালে দেশের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আলেকজান্ডার বিমান চলাচলে এমন ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায় তার ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কথা জানান। এছাড়া ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের ঘটনার বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে ন্যাটসকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের ফ্লাইট নিশ্চিতভাবে চালু আছে, কেবল তাদেরই বিমানবন্দরে আসা উচিত।
এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে, যখন ন্যাটসের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। এর জেরে বৃটেনে আসা ও দেশটি থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় এয়ারলাইন্সগুলো। ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম। ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রোতে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কিছু সময়ের জন্য ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বিমান চলাচল শুরু হলেও বিকেলে আবারও বিঘ্ন ঘটে।
গ্যাটউইক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লন্ডন গ্যাটউইক থেকে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার, লুটন, স্ট্যানস্টেড, ব্রিস্টল ও বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দরও বুধবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ব্রিস্টল, বেলফাস্ট ও লুটন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের দিনের বিঘ্নের রেশ এখনও রয়ে গেছে।
নতুন মৌসুমের শুরুতেই ইউরোপীয় ফুটবলে গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও ফেরমিন…
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক…
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে পরাজিত…
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং…
This website uses cookies.