Header Premium (728×90)

নিশাচর শিকারি পেঁচা: রাতের আকাশে এক রহস্যময় গোয়েন্দা

দিনের বেলা সচরাচর পেঁচাকে দেখা যায় না। তারা তখন গাছের কোটরে চোখ কুঁচকে ঝিমিয়ে সময় কাটায়। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই তাদের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে ডানা মেলে উড়ে চলা পেঁচাকে দেখে মনে হয় যেন কালো মেঘের এক টুকরো, যার উড়াল এতটাই নিঃশব্দ যে কেউ টেরই পায় না।

পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই পেঁচার বাস। বরফে ঢাকা আর্কটিক থেকে শুরু করে উত্তপ্ত মরুভূমি কিংবা ঘন জঙ্গল—সবখানেই তাদের দেখা মেলে। এদের প্রজাতির সংখ্যা ২৫০টিরও বেশি। এদের আকার-আকৃতিতেও রয়েছে বিশাল বৈচিত্র্য। কেউ কেউ মাটির নিচের গর্তে থাকে, আবার কেউ থাকে গাছে। যেমন, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের মরুভূমিতে থাকা 'এলফ আউল' লম্বায় মাত্র ১৪ সেন্টিমিটার। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ঈগল পেঁচার ওজন হতে পারে প্রায় ৪ কেজি এবং তাদের ডানা মেললে দেড় মিটারেরও বেশি চওড়া হয়।

শিকারের ক্ষেত্রে পেঁচারা অত্যন্ত দক্ষ। ইঁদুর, ছুঁচো, ছোট পাখি, ব্যাঙ, মাছ ও পোকামাকড় তাদের খাদ্যতালিকায় থাকে। বড় পেঁচারা খরগোশ, শশক এমনকি ছোট শিয়ালও শিকার করতে পারে। তারা অনেক সময় শিকার আস্ত গিলে ফেলে। এরপর হজম না হওয়া হাড়, দাঁত বা পশম গোলগাল দলা বা 'পেলেট' হিসেবে মুখ দিয়ে বের করে দেয়, যা দেখে বিজ্ঞানীরা তাদের খাবারের হিসাব বের করেন।

পেঁচার শারীরিক গঠন তাদের শিকারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তাদের পালকের কিনারায় থাকা নরম সূক্ষ্ম অংশ বাতাসের শব্দ কমিয়ে দেয়, যা তাদের নিঃশব্দে শিকারের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এদের চোখ মানুষের মতো গোল নয়, বরং লম্বা নলের মতো এবং মাথার মধ্যে শক্তভাবে বসানো। ফলে তারা চোখ ঘুরাতে পারে না। তবে এই অভাব তারা পূরণ করে তাদের ঘাড়ের নমনীয়তায়; পেঁচা তার মাথা প্রায় ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরাতে পারে।

তাদের কান মাথার দুই পাশে পালকের নিচে লুকিয়ে থাকে এবং মজার বিষয় হলো, দুই কান একই উচ্চতায় থাকে না। একটি ওপরে ও একটি নিচে থাকায় তারা শব্দের উৎস নিখুঁতভাবে বুঝতে পারে। এছাড়া বরফের মধ্যে বাস করা স্নোয়ি আউল বা তুষার পেঁচা বয়স বাড়ার সাথে সাথে সাদা হয়ে যায়, যা তাদের বরফের সাথে মিশে থাকতে সাহায্য করে। আবার 'বারোয়িং আউল' নামক পেঁচারা মাটির নিচে গর্তে বাস করে এবং দিনের বেলাতেও শিকার করে।

প্রাচীন গ্রিসে পেঁচাকে জ্ঞানের দেবী অ্যাথেনার প্রতীক মানা হতো এবং জাপানে তাদের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। যদিও কোথাও কোথাও কুসংস্কারের কারণে তারা শিকার হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পেঁচা অত্যন্ত জরুরি। তারা ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই ভয় না পেয়ে পেঁচাকে চিনে তাদের রক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই পাওয়া যায় বার্ন আউল, যা পৃথিবীর অন্যতম বিস্তৃত স্থলচর পাখি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে অনলাইনে মেনে চলুন ৬ নিয়ম

ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরণের হ্যাকিং বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তিবিষয়ক…

10 minutes ago

তরুণরাই বাংলাদেশ: আগামীর নেতৃত্ব দেবে এই প্রজন্ম

‘ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচাওরে সবুজ ওরে অবুঝআধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’— রবীন্দ্রনাথের এই আহ্বানকে…

23 minutes ago

ভারতে ফুটবল সংস্কৃতি নেই, বিস্ফোরক মন্তব্য ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির

আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসার আগে ভারতীয় ফুটবলের সংস্কৃতি ও তৃণমূল…

35 minutes ago

বিয়েতে বিপুল খরচ না করে দান করুন: শ্রুতি হাসান

বিয়ে ও দাম্পত্য জীবনের প্রচলিত প্রথা নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত জানালেন অভিনেত্রী ও গায়িকা শ্রুতি…

36 minutes ago

হুতি হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির পাশে…

37 minutes ago

৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা?

বারিধারায় ফুটপাতে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায়…

1 hour ago

This website uses cookies.