অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের অখণ্ডতা ও গুণমান নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে নতুন করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ভিসার মেয়াদ ধরে রাখা ও দেশটিতে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার ‘ফাঁকফোকর’ হিসেবে কোর্সটিকে ব্যবহার করার অভিযোগের ভিত্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নতুন কোর্স বাতিলের ক্ষমতার এটিই প্রথম প্রয়োগ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসাধু ও নীতিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অব ম্যানেজমেন্ট (লার্নিং)’ নামের এই ভোকেশনাল (ভিইটি) কোর্সটিতে গত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থী স্থানান্তরের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে মাত্র ৫১০ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই কোর্সে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে এই সংখ্যা প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৫ সালে এই কোর্সে স্থানান্তরিত শিক্ষার্থীদের ৭৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষার অন্য কোনো ক্ষেত্র থেকে এসেছেন। এর ফলে নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ভিন্ন কোর্সে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, ২০২৫ সালে কোর্সটিতে ভর্তির অনুমোদন পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই শেষ পর্যন্ত কোর্স শুরু করেননি এবং কোর্সটির সমাপ্তির হারও অন্যান্য ভিইটি কোর্সের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বর্তমানে ৪৫২টি ভিইটি প্রতিষ্ঠানে এই কোর্সটি পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় ও নিশ্চিত ভর্তির সংখ্যা ৪১ হাজার ৩৩৩টি, যার মধ্যে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন প্রায় ১৫ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষার্থী। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কোর্স শুরু করেছেন, তারা তাদের পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন। তবে ভিইটি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা এজেন্টদের নতুন করে আর কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান লেবার সরকার ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা, নতুন শিক্ষার্থী আগমন নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্নমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নিট বৈদেশিক অভিবাসন (এনওএম) কমানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৩ লাখ মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করছেন, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপি জানিয়েছেন, প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে একটি ‘বিশ্বস্ত বৈশ্বিক শিক্ষা গন্তব্য’ হিসেবে ধরে রাখতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের জোট সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের সবচেয়ে কম সুনামধন্য অংশগুলোতে অস্থিতিশীল ও অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির সুযোগ দিয়ে গিয়েছিল, যা খাতটিতে ‘ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা’ তৈরি করেছিল। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সরকার বেসরকারি কলেজ ও প্রশিক্ষণ সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কোর্স চালুর আবেদনের ওপর ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। জুলিয়ান হিল মন্তব্য করেন, এই সময় কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিম্নমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ওঠা উদ্বেগ আরও গভীরভাবে তদন্ত করতে পারবে। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া স্পষ্ট বার্তা দিল যে, শিক্ষার নামে ভিসা ধরে রাখার পথ হিসেবে কোনো কোর্সকে ব্যবহার করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…
বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…
This website uses cookies.