Header Premium (728×90)

দিনাজপুরে গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকেরা

ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় এবং মাংসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ‘গাড়ল’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটি এখন সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিনাজপুরের অনেক বেকার যুবক এই গাড়ল পালন করে নিজেদের ভাগ্য বদলে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ এবং বাজারে এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে গাড়ল পালনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

দিনাজপুর সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলাম ২০১৮ সালের শেষের দিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পরামর্শে মাত্র ৪৫টি গাড়লের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। সে সময় তিনি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করেছিলেন। দুই বছরের মাথায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২৩০টি গাড়ল রয়েছে এবং তার বার্ষিক আয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। তার এই খামারে দুই জন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউল ইসলাম ভবিষ্যতে দুম্বা পালনের পরিকল্পনা করছেন।

গাড়ল পালনের সুবিধা সম্পর্কে খামারিরা জানান, এই প্রাণীগুলো মাচার ওপর থাকতে পছন্দ করে, যা তাদের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে দূরে রাখে এবং রোগবালাই কমায়। মাচার ওপর থাকায় গাড়লের বিষ্ঠা নিচে পড়ে যায়, যা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাড়ির পাশে সরকারি টিকলির চারণভূমিতে ছেড়ে দিলে তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, ফলে বাড়তি কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। বছরে দুইবার প্রতিটি গাড়ল ২ থেকে ৩টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে।

গাড়লের মাংস গন্ধমুক্ত, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি কেজি মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলায় নাজমুল ইসলামের মতো আরও ৭-৮ জন খামারি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার গাড়ল পালন করছেন। খামারিদের মতে, গৃহপালিত অন্য প্রাণীর তুলনায় গাড়লের রোগবালাই কম হয় এবং এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ল খামার গড়ে উঠেছে এবং স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অনেকেই এতে আগ্রহী হচ্ছেন। খামারিরা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে আরও অনেক খামার গড়ে উঠবে, যা মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

Recent Posts

আগামী সোমবার চূড়ান্ত হবে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি আগামী সোমবার চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি)…

5 minutes ago

৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির রিয়েলমি সি১০০ বাজারে এল

চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি দেশে উন্মোচন করেছে তাদের সি-সিরিজের নতুন মডেল রিয়েলমি সি১০০। ফোনটিতে ৮,০০০…

12 minutes ago

মিশরের কায়রোতে আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ, মিশরের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের…

26 minutes ago

অগ্রণী ব্যাংকের ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ভুয়া এফডিআর ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাতের…

31 minutes ago

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী দল

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামীকাল ব্রিজবেনে তিন…

37 minutes ago

১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির গ্রাহকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব শাখা ও এটিএম…

39 minutes ago

This website uses cookies.