Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি যুদ্ধ: প্রস্তুতির নানাদিক ও করণীয়

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ভর্তির প্রক্রিয়া থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির প্রতিযোগিতাটি সবচেয়ে তীব্র। বুয়েট, মেডিকেল কলেজ কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসন নিশ্চিত করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনা, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভর্তি যুদ্ধ জয়ের জন্য শিক্ষার্থীকে নিরলস চেষ্টা ও ধৈর্যের সাথে এগিয়ে যেতে হয়।

শিক্ষার্থীর সাফল্যে অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম। সচেতন অভিভাবক হিসেবে সন্তানের মানসিক ও অর্থনৈতিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা, পড়াশোনার জন্য শান্ত পরিবেশ তৈরি, প্রয়োজনীয় বইপত্র সংগ্রহ এবং সাহস ও উৎসাহ প্রদান করা তাদের দায়িত্ব। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপ একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিটি ধাপের প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন না করলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীর সঠিক মানস গঠন সম্ভব হয়, অন্যথায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে বা উচ্চ শিক্ষায় ভালো সুযোগ হারায়।

ভর্তিচ্ছুদের মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তির পরপরই একাডেমিক পড়ার পাশাপাশি লক্ষ্য স্থির করে প্রস্তুতি শুরু করা বাঞ্ছনীয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি এবং আবেদনের শেষ তারিখের দিকে নজর রাখা জরুরি। শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে কয়েকদিন আগেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা শ্রেয়, যাতে প্রযুক্তিগত বা ব্যক্তিগত সমস্যা এড়ানো যায়।

আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির লড়াই অত্যন্ত কঠিন। বিগত একাডেমিক পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে বিস্তর পড়াশোনা করতে হবে। কোচিং সেন্টার বা সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা পাওয়া গেলেও মূল লড়াইটি শিক্ষার্থীকেই করতে হয়। কোচিংয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলেও হতাশ হওয়ার অবকাশ নেই। একাডেমিক ফলাফল আশানুরূপ না হলেও এখন থেকেই নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সুযোগ পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এমনকি শুরুর দিকের পরীক্ষা খারাপ হলেও ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধরে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। লেখক তার মেয়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলো ভালো না হলেও মনোবল না হারিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েই সে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যে অবিচল থাকলেই স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

শিশুর স্থুলতা রোধে পরিবারের ৬টি কার্যকর পরামর্শ

শিশুর অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলতা রোধে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন…

5 minutes ago

আগামী বছরের জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এই…

8 minutes ago

কুমিল্লার পাড়া-মহল্লায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, টিকটকের আড়ালে খুন ও অস্ত্রের মহড়া

কুমিল্লায় টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ভয়ংকর সব কিশোর গ্যাং। সম্প্রতি স্কুলছাত্র…

12 minutes ago

পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ৮ হাজার নিয়োগ, নেপথ্যে এস আলমের ‘বিশেষ বাক্স’

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করার পর ব্যাংকটিতে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই ৮…

17 minutes ago

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১১

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের একটি টাউনশিপে পারিবারিক অনুষ্ঠানে তিন বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত…

19 minutes ago

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল সরকার

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭…

33 minutes ago

This website uses cookies.