পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় দুই নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইমরান খানের নিয়তি যেন একই সুতোয় গাঁথা। একসময় সামরিক আমলাতন্ত্রের প্রিয়ভাজন থাকা এই দুই নেতাই পরবর্তীতে এস্টাবলিশমেন্টের রোষানলে পড়েন। ইতিহাস গবেষক আলতাফ পারভেজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে ভুট্টোকে নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান কারাবন্দী ইমরান খানও প্রায় একই ধরনের প্রতিহিংসার মুখোমুখি হচ্ছেন।
১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন জুলফিকার আলী ভুট্টো। অথচ অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন; ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেননি সামনে কী ঘটতে চলেছে। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭৮ সালের মার্চে ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর, ১৯৭৯ সালের ২৪ মার্চ উচ্চ আদালতে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এবং রাওয়ালপিন্ডি কারাগারে তা কার্যকর করা হয়। দুঃশাসকদের ইতিহাসভীতির কারণে ১৯৮৮ সালে জেনারেল জিয়া সেই কারাগারটি ভেঙে সেখানে ‘জিন্নাহ পার্ক’ নির্মাণ করেন। কারাগারে ফাঁসির আগেই ভুট্টোকে তিলে তিলে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল; আলো-বাতাসহীন কক্ষে রেখে খাবারে কাচের গুঁড়া মিশিয়ে দেওয়া হতো এবং কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।
ভুট্টোর ফাঁসি হওয়া সেই পুরোনো কারাগার থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ১৯৮৬ সালে নির্মিত আদিয়ালা জেলে বর্তমানে বন্দী আছেন ইমরান খান। গত আগস্টে তাঁর কারাজীবনের তিন বছর পূর্ণ হলো। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে, যার কোনোটিতে সাজা হলেও উচ্চ আদালতে তা স্থগিত হচ্ছে, কিন্তু তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। এমনকি তাঁর স্ত্রীকেও মামলা ও বন্দিত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে; ধারণা করা হচ্ছে তিনি ইতিমধ্যে অন্তত একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁকে সুচিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে খ্যাতিমান ক্রিকেটাররা নজিরবিহীন বিবৃতি দিলেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি।
পাকিস্তানে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের দমন করতে সামরিক আমলাতন্ত্র সবসময়ই বিদেশি শক্তির, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মদদ পেয়ে এসেছে। ভুট্টোর ক্ষেত্রে যেমনটা ঘটেছিল, ইমরানের বেলাতেও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। পারমাণবিক বোমার প্রযুক্তি আয়ত্ত করা নিয়ে ১৯৭৬-৭৭ (1976-77) সালে হেনরি কিসিঞ্জারের অপছন্দনীয় হয়ে উঠলেও ১৯৭১ (1971) সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তরুণ ভুট্টোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন নিয়ে ১৯৭৬ সালের আগস্টে লাহোর গভর্নর হাউসে হেনরি কিসিঞ্জার ভুট্টোকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কর্মসূচি ত্যাগ না করলে ‘ভয়ংকর উদাহরণ’ অপেক্ষা করছে। এর কিছুদিন পরই ভুট্টো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলন রাতারাতি ধর্মীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও পরবর্তীতে রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে জেনারেল জিয়ার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। কার্টারের পর রিগ্যান এলে সেটা আরও ঘনিষ্ঠতা পায়।
ট্র্যাজেডি ২.০ (2.0) এর মতো ক্ষমতায় আসার আগে আফগান তালেবানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন ইমরান। একইভাবে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের সময় ইমরান খান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের শেষভাগে আইএসআই প্রধান নিয়োগ নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এরপর ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ঠিক প্রথম দিনই মস্কো সফর করে ওয়াশিংটনের বিরাগভাজন হন ইমরান। এই সুযোগে দেশের সামরিক বাহিনী ও ঐতিহাসিক বৈরিতা ভুলে হাত মেলানো শরিফ ও ভুট্টো পরিবার মিলে তাঁকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হয়নি।
বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে জেনারেল জিয়ার অনেক মিল খুঁজে পান বিশ্লেষকেরা। জিয়া যেমন রিগ্যানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, আসিম মুনিরও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ। এমনকি গাজায় গণহত্যা ও ইরানের ওপর অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত বছরের জুনে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন আসিম মুনির। অন্যদিকে, পিটিআই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর Islamabad অভিমুখে লংমার্চের ডাক দিয়েছে ইমরান খানকে মুক্ত করতে। তবে দলের মূল নেতাদের অনুপস্থিতি ও সমন্বয়ের অভাবে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও পাকিস্তানের নাগরিক সমাজ মুক্ত নয়, আর তাই ইমরান খানের ‘হাকিকি আজাদি’ বা প্রকৃত স্বাধীনতার ডাক আজ তাঁর মুক্তি আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন…
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন…
ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম…
নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক…
নাটোর সদর উপজেলার জংলি ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নূর হোসেন একটি…
রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন…
This website uses cookies.